
নীলফামালীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। ‘ডোর-টু-ডোর’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করে ১ হাজার ৪৭২ জন মৃত ভাতাভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত ও যোগ্য দুস্থ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৪ এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম নীতিমালা-২০২৫-এর বিধান অনুসরণ করে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
গত ৩ জুন থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ইউনিয়ন কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতাভোগীদের বর্তমান অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরসংবলিত তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত উপজেলা ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সভায় শনাক্ত হওয়া মৃত ভাতাভোগীদের ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা এবং চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির পে-রোল প্রদান না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ড ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, তালিকায় চাঁদখানা ইউনিয়নে ‘মোহনী বালা’ নামে কোনো ভাতাভোগী নেই। আর আব্দুল মজিদের মৃত্যুর পরপরই নিয়ম অনুযায়ী তার ভাতা স্থগিত করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাধ্যমে দুস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এ সহায়তা যেন কোনোভাবেই অপপ্রয়োগ বা অনিয়মের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যেই তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। ডোর-টু-ডোর যাচাই কার্যক্রম ভবিষ্যতে ভাতা বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রশাসনের এমন তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন ও সচেতন নাগরিকরা।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাছুম আলী জানান, কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এ সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং দেশব্যাপী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নে একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।