
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে পদ্মা নদীর বালুমহলের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ যুক্ত হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক হিসেবে পরিচিত হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডলের অনুসারীরা ঈশ্বরদী-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়মবাড়িয়া বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা অংশ নেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জুয়েল ও ল্যাংড়া বিপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আইনি প্রতিকার দাবি করা হয়।
এর আগে গত দুই দিনে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা হেকমত উল্লাহ কনক মন্ডল দাবি করেন, তারা বৈধভাবে বালু কিনে ব্যবসা করছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে, তার বাবা ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডল এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কনক মন্ডলের অভিযোগ, বালুমহলের আধিপত্য নিয়ে জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারী জুয়েল ও ল্যাংড়া বিপুর লোকজনের মধ্যে অতীতে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন ও প্রিন্স মাহমুদ অভিযোগ করেন, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তারা প্রতিবাদে নেমেছেন।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন তহিদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন ও জয় ইসলাম, যুবদল নেতা আতাউর রহমান, মনোয়ার হোসেন মনির, সাজেদুল হোসেন, আকরাম হোসেন ও জাকারিয়া সেন্টু এবং মহিলা দলের নেত্রী আনজু খাতুন ও রনিফা বেগম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, বালুমহলকেন্দ্রিক বিরোধে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় তারা আতঙ্কে থাকেন। এসব বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চান তারা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলার কয়েকটি এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, দুই দিন আগেও অভিযান চালিয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসন চলে আসার পর আবারও উত্তোলন শুরু করা হয়। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।