ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকারে জেলেরা, বাজারে দাম কমেনি

পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকারে জেলেরা, বাজারে দাম কমেনি

নিরাপদে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় নেমেছেন হাজার হাজার জেলে। রুপালি ইলিশ পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার নৌসীমায় মাছ ধরছেন তারা। কিছু জেলে ইলিশ, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে আড়তে ফিরছেন। এতে সরগরম হয়ে উঠেছে নদীতীরবর্তী মাছের আড়তগুলো। তিন সপ্তাহ অবসর কাটানোর পর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তবে ইলিশের দাম কমেনি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বড় আকারের ইলিশ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে অবস্থান করে জেলেদের ইলিশ আহরণ ও কেনাবেচার চিত্র দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে অনেক জেলে ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় নেমেছেন। ভোরের আলো ফোটার পর তারা মাছ নিয়ে ভিড় করেন মাছঘাটে। হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড়ছে। জেলেরা প্লাস্টিকের ট্রেতে করে ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ নিয়ে আসছেন।

এই মাছঘাটে ছোট-বড় প্রায় ২০টি ইলিশের আড়ত রয়েছে। জেলেরা এসব আড়তে মাছ এনে স্তূপ করে রাখছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাঁকডাকে জমে উঠছে কেনাবেচা। এ ঘাটে মাছ সংরক্ষণ করে বিক্রির ঘটনা খুবই কম। শহরে বিক্রির জন্য একশ্রেণির খুচরা ব্যবসায়ী এবং বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রির জন্য অন্য ব্যবসায়ীরা এখান থেকে তাজা ইলিশ কিনে নিয়ে যান।

ঘাটের পাশের গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার বলেন, রাতে নদীতে নেমে ভোরে ঘাটে এসে ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। এভাবে ইলিশ পাওয়া গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। আগামী দিনগুলোতেও ভালো ইলিশ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

আরেক জেলে আবুল কালাম খান বলেন, তারা সাতজন মিলে মধ্যরাতে নদীতে নেমেছেন। ধরা ইলিশ বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টাকায়। কিছুক্ষণ পর আবারও মাছ ধরতে নদীতে নামবেন। কয়েক দিন পর ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

ঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইলিশের দাম কমবে না। কারণ, বাজারে চাহিদা বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু জেলে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ মাছও পাচ্ছেন। বড় আকারের পাঙাশ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের পাঙাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের সরবরাহ ভালো থাকলে দাম কম-বেশি হতে পারে।

আরেক আড়তদার মো. সেলিম বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে মাছ আসা শুরু হয়েছে। আজ ও আগামীকাল পর্যন্ত বোঝা যাবে ইলিশের সরবরাহ কেমন। কারণ, বিগত বছরগুলোতে দুই দিন পর ইলিশের সরবরাহ কমে যেতে দেখা গেছে।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে বড় আকারের ইলিশ বেশি আসছে। ছোট আকারের ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। ইলিশের পরিমাণ কম পাওয়া গেলেও পাঙাশ মাছ পাওয়ায় জেলেরা কিছুটা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এ সময় নদীতে ইলিশে ভরপুর থাকার কথা। কিন্তু অভিযান দিয়ে লাভ হয়নি। কারণ, একশ্রেণির জেলে মা ইলিশ শিকার করেছেন। প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় দুটি অভিযান কঠোরভাবে পরিচালিত হওয়ায় জেলেরা সুফল পাচ্ছেন। তারা ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশও পাচ্ছেন। সরকারি উদ্যোগে পাঙাশের উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্প নেওয়া হলে এ মাছও ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

বাজারে দাম কমেনি,ইলিশ শিকার,পদ্মা-মেঘনা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত