অনলাইন সংস্করণ
১২:১৩, ০১ জানুয়ারি, ২০২৬
কর্মঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ সময় কোনো বিচারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে, সেটিই হবে তার বিচারিক জীবনের শেষ দিন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি অধস্তন আদালতের সার্বিক পরিবেশ, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, সততা বজায় রাখা এবং আদালতে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। শপথগ্রহণ করার পরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।
অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশয় দেয়ার সুযোগ নেই। বিচারক হিসেবে আপনাদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সততার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
বিচার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আপনারা মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির ৩–৭ দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করবেন। যদি রায় প্রদানে বিলম্ব করেন তাহলে পুনরায় মামলার নথি পর্যালোচনা করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হবে। ভোগান্তি হবে বিচারপ্রার্থী জনগণের। সেজন্য রায় বা আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব কাম্য নয়। আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে।
এ ছাড়া আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বহিরাগতমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোর্টকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে বাদাম, চা ও ডাব বিক্রেতাদের ছাড়াও হকারদের দেখা যায়। এদের কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশে কোনো ধরনের অনুমতি প্রদান করা যাবে না। পাশাপাশি আইনজীবীদের ড্রেসকোড মানা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শপথগ্রহণের পরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলে। মাঝে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি থাকে।