
মিয়ানমারের এক নাগরিকসহ দুজন দুষ্কৃতিকারীকে আটক করেছে কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবি। এসময় তাদের কাছে পাওয়া যায় অবৈধ দেশীয় অস্ত্র ও গুলি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) মংজয়পাড়া বিওপির একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করেন।
আটককৃতরা হলেন— বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি মংজয়পাড়ার সুইজানুর ছেলে উমং (২৫) এবং অপরজন মিয়ানমারের মংডু উইলাতং গ্রামের মংচাকনের ছেলে পানুয়া (১৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ২টি রামদা এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৫–৬ জন চোরাকারবারি দ্রুত গহিন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ৩৪ বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র মায়ানমারের চোরাকারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, অস্ত্র ও বিভিন্ন চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মংজয়পাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ গাছবুনিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে একটি সশস্ত্র চোরাকারবারি দল ইয়াবার একটি চালান মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির আভিযানিক টহল দল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সীমান্ত থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গাছবুনিয়া এলাকায় ওত পেতে অবস্থান নেয়।
পরবর্তীতে, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ৭–৮ জনের একটি সশস্ত্র চোরাকারবারি দল বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে টহল দলের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের প্রায় ৫০০ গজ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলেও জানায়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটককৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার প্রতিরোধে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।