ঢাকা সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন, শোক সভা ও দোয়া

ইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন, শোক সভা ও দোয়া

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ও জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রিন ফোরাম।

রোববার (৮ মার্চ) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শাখা ছাত্রদল, শাখা ছাত্রশিবির এবং শাখা ছাত্র ইউনিয়ন মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের গগন হরকরা গ্যালারিতে একটি শোক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবাইদুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোখসানা মিলি, থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলি, জিয়া পরিষদ সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান, ইউট্যাব-এর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, গ্রিন ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নিহত আসমা সাদিয়া রুনার পরিবারের একাধিক সদস্য, শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এসময় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোখসানা মিলি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আসমার সাথে আমার খুব বেশি সখ্যতা ছিল। কারণে অকারণে অফিসিয়াল ও অ্যাকাডেমিক কাজে সে আমার কাছে ছুটে আসতো। যতটা পেরেছি আমি তাকে সহায়তা করেছি। আমি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি এবং পরিবারটিকে সর্বোচ্চ আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।

ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. গফুর গাজী বলেন, রক্তের দাগ মুছতে না মুছতেই মধ্যযুগীয় বর্বর কায়দায় আসমা ম্যামকে ব্যক্তিগত রুমে হত্যা করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ইবিতে আর কোনো রক্ত আমাদের না দেখতে হয়।

গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসমা ম্যাডাম একজন বিনয়ী, সজ্জন এবং মেধাবী শিক্ষিকা ছিলেন। উনার যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অতি দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িতদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি অনিরাপদ স্থানে অবস্থিত তাই ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরতদের ডাটা সংগ্রহ করে তাদের একটি করে আইডি কার্ড দিয়ে নিজেদের আওতায় রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ​একইসাথে, অফিস ছুটি হলে প্রতিটি ভবনের প্রতিটি এলাকায় আনসার দিয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাুরুকুজ্জামান বলেন, ১৯৯৬ সালে চাকুরিতে জয়েন করার পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষকদের উপর অনেক হামলার ঘটনা দেখেছি। আমরা প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেছি কিন্তু একটি হামলার বিচারও আমরা পাইনি। এই বিচার না হওয়ার সম্মিলিত ফলাফলই হচ্ছে এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। ক্রিমিনাল যখন বুঝতে পারে যে অপরাধ করলে কোনো শাস্তি হবে না, তখন সে নৃশংস থেকে নৃশংসতর হয়ে ওঠে। এরই একটা দৃষ্টান্ত আমরা দেখলাম। প্রশাসন এই খুনের বিচারের জন্য যত চেষ্টা সম্ভব করুন। যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েও বিচার না পান, তখন আমরা রাস্তায় দাঁড়াবো।

এসময় সম্মিলিত মানববন্ধনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন যার আহ্বায়ক হিসেবে আমি নিজে আছি। নিরপেক্ষ, পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছভাবে আমরা এই তদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এবং আপনাদের সবার কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাই। যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো কাজের অগ্রগতি না দেখাতে পারেন, তবে ঈদের পরে আমরা শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে যাব।

এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, শিক্ষকদের এই দাবির প্রতি আমরা উদাত্ত সংহতি প্রকাশ করছি। রুনার পরিবারকে আমরা প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদান করব। এই বিচারের দাবি পূরণের জন্য রাজনৈতিক সরকারের যে পর্যায়ে যাওয়া লাগে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে পর্যায়ে যাবে। আমরা বিভাগ যাতে সচল রাখার ব্যবস্থা করেছি। রুনার স্মৃতিকে যাতে ধারণ করা যায় সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের দাবির পূরণের ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেবো। অপরাধী চিহ্নিতকরণ, গ্রেফতার এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশাসন যত ধরনের সহযোগিতা চাইবে, আমরা তার সবটুকু প্রদান করব।

উল্লেখ্য, গত বুধবার আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে আসমা সাদিয়া রুনার নিথর দেহ পাওয়া যায়। প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময় ভেতর থেকে আটকানো সভাপতির কক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহত্যার চেষ্টারত অবস্থায় দেখেছেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ইবি শিক্ষিকা,হত্যা,শিক্ষকদের মানববন্ধন,শোক সভা,দোয়া
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত