
‘ঐতিহাসিক কুরআন দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন শরীফ বিতরণ করেছে।
সোমবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ২০০টিরও বেশি কুরআন উপহার দেওয়া হয়।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ রিমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কুরআনের আলোয় আলোকিত করার প্রত্যয় থেকেই এ আয়োজন করা হয়েছে। কুরআনের শিক্ষা ধারণ করে মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ ও দেশ-জাতি গঠনের লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, শিক্ষার্থীরা কুরআন অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেদের জীবন পরিচালিত করবে এবং সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া বলেন, “আমরা এ কর্মসূচির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শহীদদের স্মরণ করছি। কুরআনের বার্তা সকল মুসলিম ও ধর্মপ্রাণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা কুরআনের শিক্ষা ধারণ করে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে আরও আলোকিত ও মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলুক।”
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ১২ এপ্রিলের পদ্মপল চোপরা ও শীতল সিং নামের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দু’জন ব্যক্তি কুরআনের সকল আরবি কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে।
রিটের বিবৃতিতে বলা হয়, “কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেখানে কাফির ও মুশরিকদের হত্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেরণা দেওয়া হয়েছে, তাই এই গ্রন্থ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম দিতে পারে।”
বিচারক পদ্মা খাস্তগীর এই মামলা গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
১০ মে জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল বের হয়। যেখানে বাংলাদেশ পুলিশ সরকারি নির্দেশ মোতাবেক লাঠিচার্জ করে। এই বাধার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ মে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে তৌহিদি জনতা সমাবেশ আয়োজন করেন। পুলিশ সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করে।
উপস্থিত জনতা শুধু দোয়া করার অনুমতি চাইলে তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা তা না দিয়ে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেন। মুহুর্মুহু গুলিতে তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দশম শ্রেণীর ছাত্র শিবিরকর্মী আব্দুল মতিন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন ও রেলশ্রমিক নজরুল ইসলাম শহীদ হন। আহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ। এই ঘটনা ইসলামপ্রিয় জনতাকে হতবিহবল করে তোলে। যার প্রেক্ষিতে ১১ মে কুরআন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।