
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টার নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রথম দফার পরীক্ষায় প্রশ্ন ওঠার পর কাজ বন্ধ থাকলেও পরবর্তী দুই দফা পরীক্ষায় নির্ধারিত মান নিশ্চিত হওয়ায় ফের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে রাবির ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৩৬৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পে শেখ হাসিনা হল, এএইচএম কামারুজ্জামান হল, ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০ তলা একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরে প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টারের নির্মাণকাজ শুরুর পর রাবির প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মাধ্যমে ‘রিবাউন্ড হ্যামার টেস্ট’ করা হয়। প্রথম পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত মান না পাওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়।
পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষা করা হলে কংক্রিটের শক্তিমাত্রা নির্ধারিত ন্যূনতম ২৫ এমপিএর চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। তবে দুই পরীক্ষার ফল ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি আরও নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে তৃতীয় দফায় পরীক্ষা করা হয়।
বুয়েটের পরীক্ষাতেও ভবনটির কংক্রিটের শক্তিমাত্রা নির্ধারিত মানের মধ্যে রয়েছে বলে ফল পাওয়া যায়। পরীক্ষাকারী দলের প্রতিবেদনে ভবনটিকে ঝুঁকিমুক্ত উল্লেখ করা হয়। এরপরই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে রাবির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক এস এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নির্মাণমান নিশ্চিত করতে নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রথম পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় পুনরায় পরীক্ষা করানো হয়। এলজিইডি ও বুয়েটের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়ায় ভবনটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টার নিয়েও কয়েক দফা পরীক্ষা করা হয়েছে। সর্বশেষ বুয়েটের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়ায় তারা আশ্বস্ত হয়েছেন। এখন যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।