
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) প্রতিষ্ঠার পর সরকারি তিতুমীর কলেজের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির বেসরকারি ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারীদের চাকরি ও বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে কলেজের বিভিন্ন বিভাগে যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতো, বর্তমানে সেখানে ভর্তি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ জন। শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ায় কলেজের নিজস্ব আয় কমেছে এবং এর প্রভাব পড়েছে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগে কর্মচারীর প্রয়োজনও কমেছে। কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে কিছু বেসরকারি কর্মচারী ছাঁটাই করা হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে কলেজে কর্মরত এসব কর্মচারীর অনেকেই ১৫ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অনেকের পরিবারের প্রধান বা একমাত্র আয়ের উৎস কলেজ থেকে পাওয়া বেতন। ফলে চাকরি হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি নিয়মিত বেতন-ভাতা বন্ধ বা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন ফি থেকে গঠিত তহবিলের মাধ্যমে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই তহবিলে অর্থের প্রবাহ কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মচারীরা।
তাদের দাবি, শিক্ষার্থী কমে গেলে আয় কমার পাশাপাশি কর্মচারীর প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেখিয়ে ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এরই মধ্যে সাত কলেজের বেসরকারি ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে তাদের চাকরি ও বেতন-ভাতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সাত কলেজে ৮৬৯ জনের বেশি বেসরকারি ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব কলেজে দায়িত্ব পালন করা কর্মচারীদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
কর্মচারীদের আশঙ্কা, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষার্থী সংখ্যা ও আয় কমে গেলে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হতে পারে। এর ফলে কয়েক মাস পর নিয়মিত বেতন পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে কলেজের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো বাস্তবায়নের সময় তাদের চাকরির অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের কর্মরত অবস্থাকে বিবেচনায় না নিলে অনেক কর্মচারী হঠাৎ করে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
৭ কলেজ বেসরকারি কর্মচারী আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রাজিব সরদার বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সাত কলেজে কর্মরত আছি। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আমাদের চাকরি ও নিয়মিত বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
৭ কলেজ বেসরকারি কর্মচারী আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক খায়ের মোল্লা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে কলেজ প্রশাসনের অধীনে কর্মরত আছি এবং এখান থেকে পাওয়া বেতনই আমাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। আমরা চাই, আমাদের চাকরি জাতীয়করণ করা হোক। তা সম্ভব না হলে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মতো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে আমাদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান করতে হবে।”