অনলাইন সংস্করণ
১৪:৫১, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক ও সম্পাদক আখতার হুসেন মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আখতার হুসেনের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, স্বজন সুহৃদ ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বরে নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আখতার হুসেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আখতার হুসেন অনেকদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সর্বশেষ তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। শরীরে রক্তচাপও কমে গিয়েছিল। শারীরিক জটিলতার কারণে প্রথমে তাকে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে বারডেম হাসপাতালে আনা হয়। এরপর তাকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে আবার নেওয়া হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত শুক্রবার থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
আখতার হুসেন পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতা করেছেন। দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
বাম চিন্তাধারায় বিভিন্ন সময় যুক্ত থেকেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, খেলাঘর ও উদীচীর সঙ্গে। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। আখতার হুসেনের ছড়ার ভাষা ছিল সহজ, প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিক।
আখতার হুসেন প্রায় ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন। তার ছড়া ও শিশুতোষ মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী, অনুবাদ, সম্পাদিত গ্রন্থসহ প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ সর্বাধিক সংখ্যক লেখার (ভুক্তি) কৃতিত্বও তার। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘আমার দুটো ডানা’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘কর্ণকুসুম ও কালোপাখার প্রজাপতি’, ‘খেলাঘরের পুতুলগুলো’ ছোটদের চারণ কবি মুকুন্দদাস’।
সাহিত্যে অবদান রাখায় আখতার হুসেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’, ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার’, ‘ ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক’, ‘, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ প্রদত্ত ‘মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা স্মারক’, ‘মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার’, ‘এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক’সহ আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন । তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির ফেলো।