ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইরানকে লক্ষ্য করে হামলার ছক, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

ইরানকে লক্ষ্য করে হামলার ছক, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি বলে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস, সিবিএস নিউজ ও সিএনএন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত বিমান ও নৌ-সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে, যা দিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই হামলা চালানো সম্ভব।

ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরি ও তার বহর অবস্থান করছে। আরেকটি বিমানবাহী রণতরি মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে, যা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে ছিল। পাশাপাশি বেশ কিছু রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং ৫০টির বেশি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

সিবিএস জানিয়েছে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি এড়াতে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে।

রয়টার্স–এর বরাতে জানা গেছে, হোয়াইট হাউস–এর সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে জানানো হয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে থাকবে, যাতে যেকোনো পাল্টা হামলা সহজেই প্রতিহত করা যায়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তিতে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি দাবি করেন, আগেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় আঘাত হেনেছে, তবে কূটনীতিই ট্রাম্পের প্রথম বিকল্প।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পর সামান্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হলেও, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষ এখনো একমত হতে পারেনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক মাধ্যমে একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরিকে সমুদ্রগর্ভে ডুবে থাকতে দেখা যায়। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ওই রণতরির চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা তাকে সমুদ্রের তলায় পাঠাতে পারে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, ইরানে নতুন হামলার পরিণতি ভালো হবে না এবং এটি আগুন নিয়ে খেলার শামিল।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালের চুক্তি থেকে সরে আসায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেয়।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, ইরান তখন ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল, যা অস্ত্রে রূপান্তরের খুব কাছাকাছি। সংস্থাটি আরও বলে, বিশ্বে একমাত্র দেশ হিসেবে ইরানই এত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধকরণ চালিয়েছে, যার হাতে পারমাণবিক বোমা নেই।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা,হামলার ছক,ইরানকে লক্ষ্য
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত