অনলাইন সংস্করণ
২২:১৫, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই মুহূর্তেই সরে আসতে পারে—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েই কেবল যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটবে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, তার হাতে ‘অনেক বিকল্প’ রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এখনই সরে যেতে পারে, কিন্তু এতে ইরানের পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগবে।
তার ভাষায়, “আমরা এখনই চলে যেতে পারি। কিন্তু আমি এই যুদ্ধ শেষ করতে চাই। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।”
অন্যদিকে, ট্রাম্পসহ মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের বারবার এমন দাবির বিপরীতে ইরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ইরানের তেল সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ট্রাম্প বলেন, দেশটির বিশাল তেলভাণ্ডার দখলের মতো অবস্থায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে ইরানের করার কিছু নেই। তিনি আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ দেশে ফিরে আসার পক্ষে থাকলেও, সিদ্ধান্ত যদি তার হাতে থাকত তবে তিনি সেই তেল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং তা থেকে বিপুল অর্থ আয় করতেন।
একই আলোচনায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইরানকে “ধ্বংস করে দিচ্ছে”। তিনি দাবি করেন, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র—সবই ধ্বংসের মুখে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি, ইঙ্গিত দেন যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া, ট্রাম্প আবারও দাবি করেন যে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে তার প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় অস্ত্র পাঠিয়েছিল।
তিনি বলেন, এসব অস্ত্র জনগণের হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছেই থেকে গেছে। তবে কোন গোষ্ঠীর কাছে সেগুলো রয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। সূত্র: আল জাজিরা