অনলাইন সংস্করণ
১১:৪৭, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে বেছে বেছে হত্যা করার চরমপন্থী আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করা ব্যক্তিরা নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের ওপর এই ধরনের হামলা চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি প্রচারিত এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের সাবেক এক বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপে বেন-গভির এই বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিদের অবমাননা করে বেন-গভির বলেন, "গাজায় এমন বহু মানুষ রয়েছে যারা বাঁচার যোগ্য নয়। তাদের বেঁচে থাকাই উচিত নয়, এমনকি তারা মানুষের পর্যায়েও পড়ে না।"
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী গাজায় চলমান তথাকথিত যুদ্ধবিরতির আওতায় সামরিক অভিযান শিথিল করার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। এর পরিবর্তে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে নতুন করে সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড জোরদার করার দাবি জানান তিনি।
যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপর সরাসরি সামরিক আদেশ দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার বেন-গভিরের নেই, তবে দেশটির যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণী শীর্ষ 'নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের' গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নিজের অবস্থান শক্ত করতেই এই মন্ত্রী এমন উগ্র অবস্থান নিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পডকাস্টে সাবেক ইসরায়েলি বন্দি ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনি বন্দিদের নিজ হাতে ফাঁসি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বেন-গভির তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আইন বাস্তবায়িত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেটি নিশ্চিত করতে "পুরো বিশ্ব ওলটপালট করে দেবেন।"
এ ছাড়া গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে বিতাড়ন এবং সেখানে নতুন করে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বেন-গভির বলেন, "আমি পুরো গাজাকে আমাদের সম্পত্তি মনে করি।"
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিস্তিনিদের এভাবে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার চক্রান্ত সরাসরি 'জাতিগত নিধন' (এথনিক ক্লিনসিং)-এর শামিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ১,২৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
বিতর্কিত আচরণের কারণে ইতিপূর্বে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তিনি নিজের চরমপন্থী অবস্থান থেকে সরে আসেননি। ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান এবং ইসরায়েলি কারাগারে তাদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।