অনলাইন সংস্করণ
২০:৫৭, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ‘কৌশলগত সংলাপ’ দ্রুত শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর চীনকে বাংলাদেশের একটি ‘বিশ্বস্ত বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ‘এক চীন নীতি’র প্রতি ঢাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার এবং এই সম্পর্ককে ‘অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যতের লক্ষ্যে চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে দুই পক্ষ তিস্তা নদী বিষয়ক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, দ্রুততম সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ ও প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালু, চীনে বাংলাদেশের কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি শুরু, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবীরকে অভিনন্দন জানান চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে তার সহযোগিতা কামনা করেন ইয়াও ওয়েন। এ সময় তিনি চীনের নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তাও প্রতিমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর। এছাড়া মোংলায় একটি নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলে (সিইআইজেড) প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি আনুমানিক ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশিদের জন্য আনুমানিক ১ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরের বিষয়েও প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগের (আইডিপিসিএ) মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ডেপুটি গভর্নরের বাংলাদেশ সফর। বৈঠকে আগামী অক্টোবরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।