অনলাইন সংস্করণ
১২:২৩, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্দানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি তেলবাহী ট্যাংকারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ছাড়া ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের কাছে খার্গ দ্বীপের পাশে থাকা আরও একটি ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন হামলার পর জর্দানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। জর্দানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৮টি ভূপাতিত করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। জর্দানের এক সামরিক মুখপাত্র জানান, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজের ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। নোঙর করা কিংবা বন্দরে থাকা- উভয় অবস্থাতেই এসব জাহাজ হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।
সেন্টকমের দাবি, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল একটি মার্কিন নৌযুদ্ধজাহাজ। তবে মার্কিন বাহিনী ওই হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি।
এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন জানিয়েছে, হামলার শিকার পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এমন একটি 'বহু বিলিয়ন ডলারের ছায়া নেটওয়ার্কের' অংশ, যার মাধ্যমে আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়ন করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা চালাবে বা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে।
সর্বশেষ হামলার অন্যতম লক্ষ্য খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল এই দ্বীপে অবস্থিত। ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে খার্গ দ্বীপে এনে সেখান থেকে রপ্তানি করা হয়।
দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও। এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছায়।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বরও যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, তার আগে ইরান একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারে হামলার চেষ্টা করেছিল।
গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কয়েক মাস পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।