ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু হলো বুরকিনা ফাসোয়

সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু হলো বুরকিনা ফাসোয়

নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। দেশব্যাপী প্রথাগত রূপচর্চা ও সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত ঘোষণা করে এবার নারীদের মেধা, বুদ্ধি ও প্রতিভাকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবে বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণী ও নারীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে এবং তাদের পুরস্কৃত করতে চালু করা হয়েছে হাকিলি মুসো নামের এক অনন্য জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা।

সংবাদমাধ্যম ব্রিফলির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের জুন মাসে বুরকিনা ফাসো কর্তৃপক্ষ এক আদেশের মাধ্যমে দেশটিতে চালু থাকা সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক ঐতিহ্য ও মানবমর্যাদা রক্ষার তাগিদে নতুন একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে এবং সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন এসব সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা বন্ধ থাকবে। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিকল্প হিসেবে নারীদের মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেই পরবর্তী সময়ে আগস্ট মাসে ‘হাকিলি মুসো’ নামক এই নতুন বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

উদ্বোধনী আসরেই সাড়া ফেলে দেওয়া এই প্রতিযোগিতায় দেশটির ৮৪ জন তরুণী অংশ নেন, যারা প্রত্যেকেই ২০২৬ সালে বিজ্ঞানে ব্যাকালোরেট বা উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। বিজ্ঞানভিত্তিক ক্যারিয়ারে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও উৎসাহ জোগাতে মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে তাদের নিয়ে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রস্তুতিমূলক বা বুট ক্যাম্প কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এই নিবিড় প্রশিক্ষণের পর প্রতিযোগীরা সরাসরি গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের মতো জটিল বিষয়ে লিখিত ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রতিটি বিষয়ে শীর্ষ পাঁচজন সেরা প্রতিযোগী বা বিজয়ী নির্বাচন করা হয় এবং তাদের মূল্যবান পুরস্কার ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। যার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীদের প্রত্যেকে পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি উন্নতমানের মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ এবং বেশ কিছু আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রী।

প্রতিযোগিতা শেষে দেশের এই উজ্জ্বল প্রমাদের সঙ্গে দেখা করেন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট সামরিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম ট্রাওরে। বিজয়ী মেধাবী তরুণীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাদের নিজেদের ভেতরের শক্তি ও ক্ষমতার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানান। বিজ্ঞানভিত্তিক ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম ত্রাওরে তরুণীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেন তারা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। রাষ্ট্রপতির এই সরাসরি সাক্ষাৎ ও অনুপ্রেরণামূলক নির্দেশনা বিজয়ী তরুণীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

পশ্চিম আফ্রিকান সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধ্যানধারণা হলো, বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা বুঝি কেবল পুরুষদের জন্যই সংরক্ষিত। এই ধারণা ভুল ও অপ্রাসঙ্গিক প্রমাণ করতেই মূলত 'হাকিলি মুসো' প্রতিযোগিতার আয়োজন। বুরকিনা ফাসো সরকারের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে আরও বিপুল সংখ্যক নারী বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবেন।

বুরকিনা ফাসো,বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা,চালু,সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত