ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মুক্তি পেলেন নেহা বোরা, দিপকের সন্ধান চায় সিজেপি

মুক্তি পেলেন নেহা বোরা, দিপকের সন্ধান চায় সিজেপি

দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে আটককৃত সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে প্রতিরোধমূলক আটকের পর কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দলটি। দীপকের অবস্থান এখনো অজানা বলে দাবি করেছেন সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিং।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিল কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযানে দিপকে ও নেহা বোরা আটক হন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হলেও দিপকেকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে রাখা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় আটকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, অভিজিৎকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও তাকে এসইএম আদালতে হাজির করা হবে। তার অবস্থান এখনো অজানা, আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

এদিকে সিজেপির দাবি, দিপকেকে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দিপকের অনুপস্থিতিতে সিজেপির নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, দিপকেকে আটক করার আট ঘণ্টার বেশি পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তিনি কোথায় আছেন, তা এখনো আমরা জানি না। তাকে আইনজীবী কিংবা আমাদের দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, তা-ও আমরা জানতে পারিনি।

গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ বাসা থেকে আটক করেছে অভিজিৎ দিপকেকে। এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আটক করা হলো সিজেপি নেতাকে। একই দিন পুলিশ অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেতা নেহা বোরাকেও আটক করেছে। তাকে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হয়েছে। এর আগে ১০ অক্টোবর তাকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে। তারা পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে রয়েছেন।

সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে নয়াদিল্লি ফিরে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। গতকাল বিকেলে তাদের কর্মসূচি আয়োজন করার কথা ছিল। তবে দিনের শুরুর দিকে সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙ্গা মার্চের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি পুলিশ সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকের বাড়িতে নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশে তাকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করতে নিষেধ করা হয়।

পরে করোলবাগের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শারদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের বাসা থেকে দিপকেকে তুলে নেওয়া হয়।

একই সময়ে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী কনট প্লেসে জমায়েত হওয়া বিশাল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা অভিযোগ করেন, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের মনে ভয় তৈরি করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নেহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ দেশে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই মানুষকে আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে বসিয়ে রাখার ঘটনা ঘটছে। চলমান আন্দোলনে প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা দেখছি, বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে, তারপর পরদিন সকালে বা সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আজ আমি নিজেই দেখেছি, কেন এমন বেআইনি আটক করা হয়, এর উদ্দেশ্য কী এবং সাধারণ নাগরিকদের মনে ভয় তৈরি করতে কীভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিজিৎ দিপকে ও অন্য আটক বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

নেহা বলেন, অভিজিৎকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে আটক করা হয়েছে, সেটাও আমি জানতাম না। বেআইনিভাবে আটক অন্য সব বিক্ষোভকারীকেও অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তারা সাধারণ নাগরিক, যারা কেবল জবাবদিহিতা ও ভোট দেওয়ার অধিকার চেয়েছেন। এ ধরনের আটকের কোনো যৌক্তিকতা নেই। মানুষকে সারা রাত থানায় আটকে রাখারও কোনো কারণ নেই।

শুক্রবার দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে পুলিশ তাদের আটক করার পর থেকেই দিপকে ও নেহা বোরার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিজেপি ও আইসা। দুই সংগঠনের অভিযোগ, আটকের পর তাদের আইনজীবী ও সহযোগীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

সিজেপির দাবি, দিপকেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না দলটি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি বলেছিল, দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দিপকেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

সিজেপি,দিপকের সন্ধান,নেহা বোরা,মুক্তি পেলেন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত