অনলাইন সংস্করণ
১৬:১৫, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
খাবারের শেষে একটুখানি মিষ্টি দই কিংবা প্রতিদিনের ডায়েটে টক দইয়ের জনপ্রিয়তা সবসময় তুঙ্গে। তবে প্রায়ই দই দ্রুত অতিরিক্ত টক বা নষ্ট হয়ে যায়- হোক সেটি বাড়িতে পাতা কিংবা বাজার থেকে কেনা। মূলত সঠিক সংরক্ষণের কৌশল না জানার কারণে দইয়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়ালে এমনটি হয়। দইয়ের স্বাদ ও গুণগত মান অটুট রাখতে কিছু জরুরি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
চলুন জেনে নিই দই সংরক্ষণের উপায়গুলো-
অনেকে বাড়িতে পাতা দই জমে যাওয়ার পর সেটি ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখেন। এই কাজ করা যাবে না। কেননা, দীর্ঘ সময় সেটি বাইরে রাখলে গাঁজনের গতি বেড়ে দই অতিরিক্ত টক হয়ে যায়। তাই পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে এটি দ্রুত ফ্রিজে তুলে নিন।
দই সংরক্ষণের জন্য পরিষ্কার ও খাবার উপযোগী ঢাকনাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করতে হবে। ফ্রিজের তাপমাত্রা সর্বদা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম রাখা ভালো। তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে খাবারে দ্রুত জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে।
প্রতিবার দই নেওয়ার সময় পরিষ্কার ও শুকনো চামচ ব্যবহার করুন। অনেকেই যে চামচ দিয়ে দই খান সেটিই দইয়ের মূল পাত্রে ব্যবহার করেন, যা একদমই উচিত নয়।
দইয়ের পাত্র বারবার ফ্রিজ থেকে বের না করে একবারে প্রয়োজনমতো দই আলাদা পাত্রে তুলে নিন। এর পর বাকিটা দ্রুত ফ্রিজে ফিরিয়ে রাখুন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, পচনশীল খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টা বা তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রির বেশি হলে ১ ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা নিরাপদ নয়।
স্বাভাবিক গাঁজনের কারণে সামান্য দইয়ের স্বাদ কিছুটা টক হতেই পারে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং মেয়াদ আছে এমন টক দই খাওয়ার উপযোগী। তবে দইয়ে তীব্র দুর্গন্ধ, ছাঁচ বা অস্বাভাবিক রং দেখা দিলে সেটি খাওয়া উচিত নয়। এমনকি তা রান্নায় ব্যবহার করাটাও অনিরাপদ।
মনে রাখবেন, দই স্বাদে টক মানেই নষ্ট না, আবার দেখতে ঠিকঠাক মানেই নিরাপদ না। তাই, সংরক্ষণের পদ্ধতি ও তাপমাত্রা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে দইটি খাওয়ার উপযোগী কি না। সন্দেহ হলে সেটি ব্যবহার না করে ফেলে দেওয়াটাই উত্তম।