
দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর, জাদুঘর কর্মী, ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্য কর্মী ও জনগোষ্ঠীকে আইকম আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করার আহবান করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কো প্রতিনিধি ড. সুসান ভাস। তিনি আরো বলেন আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিষদ বা আইকম কোনো জাদুঘর বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিদর্শন কিভাবে সংগ্রহ, নিবন্ধিকরণ, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শন ও প্রকাশনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সংযুক্ত করে কি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা ও হেফাজতের ব্যবস্হা করা। তিনি রোববার হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগ অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিষদ বা আইকম-জাদুঘরের জন্য আচরণ বিধিলালার উপর দীনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ আহবান জানান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মাসুদ ইমরান মান্নু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হেনরি ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব আলম আরা বেগম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিষয় আইকম-জাদুঘরের জন্য আচরণ বিধিমালার উপর ফেসিলিটেটর ও হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আইকম বাংলাদেশ জাতীয় কমিটির সাবেক চেয়ারপার্সন জাহাঙ্গীর হোসেন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং আচরণ বিধিমালার বাংলা অনুবাদ পেশ। তিনি আচরণ বিধিমালার ইতিহাস ও প্রতিপালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের নিকট বাংলা অনুবাদ আচরণ বিধিমালার উপর মতামত আহ্বান জানান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ৫টি ভাগে ভাগ হয়ে তাদের মতামত সুপারিশ পেশ করেন। উক্ত সুপারিশমালা পর্যালোচনা আচরণ বিধিমালাটি পুস্তক আকারে প্রকাশ করা হবে এবং তা সরকারের নিকট সংশ্লিষ্ট সকলের অনুসরণের লক্ষ্যে প্রেরণ করা হবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, এশিয়াটিক সোসাইটি ঐতিহ্য জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, জাহানারা ফাউন্ডেশন জাদুঘর, এশিয়ান সংগীত জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতির ৭৩ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।