অনলাইন সংস্করণ
১৪:২৬, ২০ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে ইরানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশিদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী মোশারফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এ পর্যন্ত আমরা পাাঁচজন বাংলাদেশি ভাইকে হারিয়েছি। আমরা সবার পাশে আছি। বর্তমানে যুদ্ধাবস্থায় দেশগুলোতে বাংলাদেশি ভাই-বোনরা আছেন তাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যুদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। তাদের সুরক্ষা করার জন্য আমরা যা যা করার করব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মিশনগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তারা যেন ভালোভাবে থাকতে পারে সেটা দেখার চেষ্টা করছে। আমরা আশা করব, এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটবে। বাংলাদেশ চায়, এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটুক। বাংলাদেশ চায় কূটনীতি এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হোক।
মধ্যপ্রাচ্যে থেকে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরোনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, পর্যায়ক্রমে আনা হবে। আমাদের প্রস্তুতি আছে। যারা ফেরত আসতে চায় আমরা তাদের ফেরত নিয়ে আসব, আর এটা পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা করব। আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রস্তুত আছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখানে এসেছি। আমরা যুদ্ধকালীন সময়ে প্রবাসীদের পাশে ছিলাম। আমরা প্রবাসীদের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আমাদের যে ভাই লাশ হয়ে ফিরে এলেন তার পরিবারের জন্য আমরা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে দেবো। তার দুই বাচ্চাদের পড়ালেখার দায়িত্ব প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে চাকরি ছেড়ে দেশে আসা প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকার করবে কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আসার পর আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। অনেক সময় তারা ফিরে যেতে চাইবে। তারা ফিরতে চাইলে আমাদের যা যা করার করব। যেভাবে আমরা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করেছি সেভাবে তারা যদি কর্মসংস্থানে ফিরে যেতে চায় আমরা সহযোগিতা করব। আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যারা মারা গেছেন তাদের বাড়িতে মরদেহ নেওয়ার খরচ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, নিহতের পরিবারকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব প্রবাসীর বিএমইটির কার্ড রয়েছে তারা আরও ১০ লাখ টাকা পাবেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের কাছে আল-তোয়াইক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি মোশারফ হোসেন নিহত হন। শুক্রবার সকালে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।
বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
নিহত মোশারফ হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরে। তিনি উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের মো. সুরজত আলীর ছেলে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী টাঙ্গাইলের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কাছে মোশারফের মরদেহ হস্তান্তর করেন।