
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফেরি ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১ জুন ) রাতে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নোঙর করা ‘মহানন্দা’ ফেরিতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হওয়া যাত্রীদের সঙ্গে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সাংসদ আবদুল হান্নান মাসউদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকাল সোয়া ৪টায় হরণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছেড়ে এসে বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে পৌঁছায় ফেরি মহানন্দা। নিয়ম অনুযায়ী ফেরিতে যাত্রী, যানবাহন ও পণ্য উঠানামায় সর্বোচ্চ সোয়া এক ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসাবে সন্ধ্যা ৭টায় ফেরিটি পুনরায় চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সেটি ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর।
যাত্রীদের অভিযোগ, বিকাল থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গাড়ি পারাপারের জন্য বুকিং নেয়া হয়। তবে ঘাটে পৌঁছে ফেরিটি খালি করার পর সেটিতে বুকিং নেয়া যানবাহন উঠতে দেয়া হচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে না ছাড়ার কারণে ফেরিতে থাকা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে ভ্যাপসা গরমের কারণে নারী ও শিশুদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কেন ফেরি ছাড়া হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান এমপি আসবেন, তারপর ছাড়া হবে। একজন জনপ্রতিনিধির জন্য এতগুলো মানুষকে যদি কষ্ট করতে হয়, তাহলে উনি কেমন জনপ্রতিনিধি। যথাসময়ে ফেরি না ছাড়ার কারণে তারা চেয়ারম্যানঘাট, সোনাপুর বা জেলা শহর মাইজদী গিয়ে ঢাকাগামী রাতের বাস ধরতে পারেননি।
এ বিষয়ে ফেরির মাস্টার মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে ফেরিটি নলচিরা ঘাটে পৌঁছায়। আনলোড ও লোডে সাধারণত ৪০ মিনিট করে সময় লাগে। কিন্তু আমাদের আগেভাগেই জানানো হয়েছিল এমপি সাহেব আসবেন, তাই ফেরি ছাড়তে একটু দেরি হবে। এ কারণে আমরা শুরুতে গাড়িগুলো উঠতে দিইনি। এতে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে রাত ৮টার পর আমরা চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশে রওনা দিই। তবে দুই ঘণ্টা নয়, ফেরি ছাড়তে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এক ঘণ্টার মতো দেরি হয়েছে।’
এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। এতে তিনি বলেছেন, নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ফেরি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি এবং একটি অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশে নির্ধারিত সময়ে হাতিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে আমাকে প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ফেরিতে উঠানো থেকে বিরত রেখে ঘাট সংলগ্ন সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড় করিয়ে রাখে। এর ফলে অস্বাভাবিক যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে প্রতীয়মান হচ্ছে যে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং ফেরি ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের অপতৎপরতা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
তিনি আরও বলেছেন, আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, ফেরি চলাচল কোনো ব্যক্তি বা ভিআইপি নির্ভর নয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই ফেরি চলবে এবং সব যাত্রী সমানভাবে সেবা পাবেন। ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে যারা কালো সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আবা/এসআর/২৬