অনলাইন সংস্করণ
১৫:০২, ১৯ জুলাই, ২০২৬
২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণহত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তের অগ্রগতির খসড়া প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কার্যালয়ে মামলার অগ্রগতি জানতে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাসহ ১৪-১৫ জনের একটি প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসে। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, একই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। সেই সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ ও র্যাব প্রধান এবং ডিএমপি কমিশনারকেও এতে আসামি করা হয়েছে।
তবে ৪০ জন আসামির সবার নাম জানায়নি প্রসিকিউশন। নাম প্রকাশ হলে কেউ কেউ পালিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা আছে।
এদিন সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার এই প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের হাতে আসে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে এটি পর্যালোচনার কাজ চলছে। এ সপ্তাহে নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হবে।
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন রাত ১১টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় মুহুর্মুহু গ্রেনেড, লাঠিচার্জ ও হামলায় হেফাজতের সমাবেশে আসা মানুষ হতাহত ও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।