অনলাইন সংস্করণ
১৪:২৩, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
আজ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের সরকারি নীতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ছয় মাসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এসব খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ও উঠে আসে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ব্যাগ বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ সময় সরকারি নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে দ্রুত নগরায়নের ফলে বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা জানানো হয়।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়লে তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।