ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নীতিমালা তৈরি করে সাংবাদিকদের গুণগতমান পরিবর্তন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

নীতিমালা তৈরি করে সাংবাদিকদের গুণগতমান পরিবর্তন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

নীতিমালা তৈরি করে সাংবাদিকদের গুণগতমানের উন্নয়ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, ‘কোনো নীতিমালা করে মানুষকে নৈতিকভাবে ভালো করা যায় না। নীতিমালার মাধ্যমে হয়তো সাংবাদিকতাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব, কিন্তু সাংবাদিকদের গুণগতমান পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা।’

আজ (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে তাদের একটি অর্ধসত্য সংবাদেও কোনো মানুষের জীবন, ক্যারিয়ার ও মান-সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। একইভাবে কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা করাও ঠিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের লেখনী ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে যেন রাষ্ট্র, জনগণ ও মানুষের কল্যাণ সাধিত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাংবাদিকতার কারণে কোনো মানুষ যেন অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও তাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

মিডিয়ার ওপর হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমি বিশ্বাস করি, ২০টি টেলিভিশন চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা আপনার পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চান, আপনি থাকতে পারবেন না। এর বড় উদাহরণ ফ্যাসিস্ট রেজিম। দুই বছর আগে দেখা গেছে, সব সংবাদমাধ্যম পক্ষে থাকার পরও সময় শেষ হয়ে গেলে কেউ আর পাশে থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমই গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। সাংবাদিকরা তাদের মতো করে কাজ করবেন এবং সরকারের কাজ ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ হচ্ছে, তা গণমাধ্যমই তুলে ধরবে।’

সাংবাদিকদের প্রতি কোনো খবর প্রকাশের জন্য চাপ সৃষ্টি বা তাদের চাকরি নষ্ট করার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার কথাও জানান তিনি।

সাইবার বুলিং ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সাইবার বুলিং ও ফেক নিউজের কারণে সংবাদমাধ্যমের সৃজনশীলতা কমে গেছে। মানুষ এখন কোনো সংবাদ দেখলেই সেটিকে “ফেক নিউজ” বলে সন্দেহ করে। এমনকি সঠিক সংবাদ প্রকাশ হলেও মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।’

পার্থ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি, প্রজন্ম এবং গণমাধ্যম—সবকিছুই আগের চেয়ে আলাদা। সাংবাদিকদের কলম ধরার সময় সরকারের সমালোচনা করতে হবে এবং কোথায় কোথায় কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না, তা তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্বও মাথায় রাখতে হবে।’

ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিএনপি, বিজেপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

তথ্যমন্ত্রী পার্থ,নীতিমালা,সাংবাদিক
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত