
অপরাজিত ৩৫০ রান করে প্রথম শ্রেণির তথা স্বীকৃত ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়লেন তাওহীদ হৃদয়। ছয় বছর আগে মিরপুরে বিসিএলের ম্যাচে তামিম ইকবাল ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে করেছিলেন অপরাজিত ৩৩৪ রান। এতদিন এটিই ছিল স্বীকৃত ক্রিকেটের বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সবচেয়ে বড় ইনিংস। সেই নজির ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়লেন তাওহিদ হৃদয়।
বুধবার পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের চতুর্থ ও শেষদিনে অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেন হৃদয়। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ 'এ' দলের অধিনায়ক ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে অপরাজিত থাকেন ঠিক ৩৫০ রানে। ৪৮১ বল মোকাবিলা করে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করার পরপরই দুই দল ড্র মেনে নেয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির তথা স্বীকৃত ক্রিকেটে সাড়ে তিনশ রানের ইনিংস খেলার কৃতিত্ব দেখালেন হৃদয়। আগের সর্বোচ্চ ছিল সাবেক বাঁহাতি ওপেনার ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিমের। তিনি ২০২০ সালে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে ৪২৬ বলে খেলেছিলেন ৩৩৪ রানের অনবদ্য ইনিংস। তার ব্যাট এসেছিল ৪২ চার ও তিন ছক্কা।
ছয় বছরের ব্যবধানে তামিমকে টপকে চূড়ায় উঠে গেলেন ২৫ বছর বয়সী হৃদয়। তার স্মরণীয় ইনিংসটি সাজানো ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কায়। তৃতীয় দিনের ৩৩৯ বলে ২০৪ রান নিয়ে শেষদিনে খেলতে নেমেছিলেন তিনি।
এর আগে ট্রিপল সেঞ্চুরি স্পর্শ করার মাধ্যমেও রেকর্ড বইতে নাম লেখান হৃদয়। দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণিতে এই রেকর্ড গড়েন তিনি। সব মিলিয়ে এই পর্যায়ের ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানো বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার তিনি।
হৃদয় ও তামিম ছাড়া বাকিজন হলেন রকিবুল হাসান। ২০০৭ সালে প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ফতুল্লায় জাতীয় লিগের ম্যাচে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৬০৯ বলে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
আরেকটি বিরল কীর্তি আগের দিনই করেছিলেন হৃদয়। দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। বাকিরা হলেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ (২০০৩ সালে করাচিতে ২১৮), মুশফিকুর রহিম (২০১৩ সালে গলে ২০০) ও সাকিব আল হাসান (২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে ২১৭)।
আবা/এসআর/২৬