অনলাইন সংস্করণ
১৬:৩৪, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মৈত্রী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের রেল যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মৈত্রী ট্রেন চালু হলে দুই দেশের নাগরিকদের সরাসরি যাতায়াত আরও সহজ হবে।
বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাতায়াতকারীদের জন্য এ রেলসেবা গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি। রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে মানুষের সময় ও ব্যয় দুটোই কমবে বলে মনে করেন রেলমন্ত্রী।
বৈঠকে বিদ্যমান রেল যোগাযোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে এ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রেল যোগাযোগের পরিধি বাড়ানো, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং আন্তঃদেশীয় রেল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়।
তবে মৈত্রী এক্সপ্রেস ঠিক কবে থেকে আবার চলাচল শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। রেলমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও প্রস্তুতি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রেলমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ শুধু যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়, এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করেই মৈত্রী ট্রেন চালুর বিষয়ে সরকার আগ্রহী।
ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিভিন্ন কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাস থেকেই তিনটি ট্রেন আবার চালু হতে পারে। তবে ট্রেন চলাচল শুরুর আগে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্রেন দুটি বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়। অন্যদিকে মিতালী এক্সপ্রেস সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকায় এসেছিল। এরপর সেটি আর ভারতে ফিরে যায়নি বলে রেল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পিটিআই।
মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা ও কলকাতার মধ্যে এবং মিতালী এক্সপ্রেস আগে ঢাকা ও নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচল করত।