অনলাইন সংস্করণ
১৩:২০, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে বিশেষ প্রতিরোধ কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক এই দুই মারাত্মক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে এবং শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী এই নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (তথ্য অফিসার) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশজুড়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হলেও, কবে নাগাদ এই কার্যক্রম শুরু হবে বা কমিটিতে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্রুতই এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ও রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে। সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব অপরাধ নির্মূলে দেশজুড়ে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের আলোকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর আগে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের পর তার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রতি মাসে এসব কমিটির কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন সংগ্রহ করবে। পরবর্তীতে সংগৃহীত ওই প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে নিয়মিতভাবে দাখিল করতে হবে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাঙ্গনে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এর আগেও নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত বছরের (২০২৫) ২১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সপ্তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সময় মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক কাজী মো. আবু কাইয়ুম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং এর বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দিষ্ট গুগল ফর্ম ও কিউআর কোডের মাধ্যমে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে ওই কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য প্রেরণেরও বাধ্যবাধকতা ছিল। সরকারের ধারাবাহিক সেসব সচেতনতামূলক পদক্ষেপের বাস্তব প্রয়োগ হিসেবেই এবার সরাসরি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের এই কঠোর সিদ্ধান্ত এল।