ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

৫ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

৫ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অভিন্ন সমৃদ্ধির অংশীদারত্বে রূপ দিতে টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে আয়োজিত এই বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং আঞ্চলিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে কৌশলগত ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) উদ্যোগকে এখন থেকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এই উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর (মাতারবাড়ী) এবং আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা নির্মাণে দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

এর পাশাপাশি জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে, যার ফলে অন্তত দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে যৌথ ঘোষণায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি কেন্দ্রে পরিণত করার রূপকল্প তুলে ধরেন। তিনি দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক, টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা, এআই ও মহাকাশ গবেষণায় জাপানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে এলএনজি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহজ করতে কর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে দুই দেশের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারেও দুই নেতা একমত হন।

বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় একটি টহল জাহাজ এবং আরও পাঁচটি টহল বোট দেওয়ার কথা যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই প্রধানমন্ত্রীই একমত হন যে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে (মিয়ানমারে) প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সহযোগিতাকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বিনিয়োগ,কর্মসংস্থান
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত