অনলাইন সংস্করণ
১৭:২৭, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬
এনসিপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম।
বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, বিএনপির লোকজন তাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং বলছে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পরে তাদের দেখে নেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগেই যদি ক্ষমতার প্রভাব, পেশিশক্তি ও কালোটাকার দাপট দেখানো হয়, তাহলে আসন্ন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। প্রয়োজনে সাধারণ ডায়েরি ও মামলা করার কথাও বলেন সারজিস আলম।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা যদি আওয়ামী সংস্কৃতির মতো আচরণ করে পার পেয়ে যাবে বলে মনে করে, তবে এই বাংলাদেশে তা সম্ভব হবে না।
হলফনামা সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, তার বার্ষিক আয়কর রিটার্নের তথ্যে একটি অনিচ্ছাকৃত টাইপিং ভুল ছিল, যা নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া হয়েছে। হলফনামায় দেওয়া অন্যান্য তথ্য সঠিক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ বিষয়টি নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু অ্যাক্টিভিস্ট ইচ্ছাকৃতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, যার পেছনে রাজনৈতিক দলকে হেয় প্রতিপন্ন করা, প্রার্থীকে বিতর্কিত করা এবং জুলাইয়ে যারা নেতৃত্বে ছিলেন তাদের প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে আবারও প্রাসঙ্গিক করার নানা উদ্দেশ্য রয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, মিরজাহান নামে এক অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে ওবায়দুল কাদেরের পালানোর ঘটনায় তাকে জড়িয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে এর কোনো ভিত্তি পায়নি এবং ওই পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কয়েকদিন আগে তিনি হাদি হত্যাকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচনের আগে রায় কার্যকরের বিষয়ে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেন লিখেছেন, তিনি নাকি সেনাপ্রধানকে সহযোগিতা করে গাড়ি দিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে পার করে দিয়েছেন।
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, এ ধরনের কিছু অ্যাক্টিভিস্ট উদ্দেশ্যমূলকভাবে, অর্থের বিনিময়ে বা কারও এজেন্সি হিসেবে কাজ করে দেশের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলছে। অভ্যুত্থানের আগের ভূমিকার জন্য তারা সম্মান পেতে পারেন, তবে তার মানে এই নয় যে তারা যা খুশি করে পার পেয়ে যাবেন। এ ধরনের অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সারজিস আলম বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে যদি কেউ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে যে শাস্তি দেওয়া হবে তিনি তা মেনে নেবেন। তবে আওয়ামী লীগের পেইড এজেন্ট হিসেবে যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরও উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুরভীর মামলার এজাহারে ৫০ হাজার টাকার কথা থাকলেও সেটিকে ৫০ কোটি টাকা বলে প্রচার করা হয়েছিল। পরে সেটিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু তথাকথিত সাংবাদিকের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে সমাজে তার মুখ দেখার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব অপতৎপরতা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম আরও বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতা থাকলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।