ঢাকা রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

১১ দলে আসন বণ্টন: ‘চূড়ান্ত’ ঘোষণা দুয়েক দিনের মধ্যে

১১ দলে আসন বণ্টন: ‘চূড়ান্ত’ ঘোষণা দুয়েক দিনের মধ্যে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ সমমনা দল ‘এক বাক্সে’ ভোট আনার কৌশল বাস্তবায়নে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। দলগুলোর সংসদীয় আসন বণ্টন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জানা গেছে, মাঝপথে কয়েকটি দলে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও নানামুখী আলোচনার পর দূরত্ব অনেকটাই কমেছে। এখন সংসদীয় ৩০০ আসনে জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ৩০টি আসন দিচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে সাতটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-কে সাতটি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-কে দুইটি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-কে দুইটি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এসব দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার পর বাকি সাতটি আসন নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি দল এক বা দুটি করে আসন ছাড় পেতে পারে।

১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার আলোচনা চলার মধ্যেই জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। পাশাপাশি এনসিপি ৪৪টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন বণ্টন নিয়ে মতভেদ থাকলেও নির্বাচনের ভালো ফলের জন্য সবাই তা মেনে নিয়েছে। নির্বাচনি আসন সমঝোতায় প্রথমে ইসলামপন্থী আটটি রাজনৈতিক দল ‘ওয়ান বক্স’ ভোট টানতে একমত হয়। পরে এই জোটে যুক্ত হয় এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি। প্রথমে আট দলের আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনের দাবি তোলে। অন্য দলগুলোর দাবিও ছিল তুলনামূলক বেশি। তবে শেষ মুহূর্তে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হলে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের মধ্যে আসনসংখ্যা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। আর সেই অসন্তোষ মেটাতে কয়েক দফায় বৈঠকে বসেন দলগুলোর প্রতিনিধিরা। শেষমেশ ইসলামপন্থী আটটি রাজনৈতিক দল প্রত্যেকেই কিছু কিছু আসন ছেড়ে দিয়ে নতুন করে যুক্ত হওয়া তিনটি দলকে আসন দিয়েছে, যার মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় জোট সমঝোতায় পৌঁছেছে।

এনসিপির দায়িত্বশীল দুজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংসদীয় আসন ৪০টির বেশি চাওয়া হয়েছিল, তবে ৩০টি আসনে সমঝোতায় পৌঁছেছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গতকাল শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, জোটে তারা কতটি আসন পাচ্ছেন, তা দুই-এক দিনের মধ্যেই জানানো হবে।

জোটের বেশ কয়েকজন নেতা বলেছেন, জোটের কোনো মৌলিক বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়নি। প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ‘ওয়ান বক্স’ নীতি বাস্তবায়নে তারা অনড় অবস্থানে আছেন। জোটের আসন বণ্টন প্রায় চূড়ান্ত; দুই-এক দিনের মধ্যেই দেশবাসীর সামনে তা তুলে ধরা হবে।

সমমনা জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলীয় আলোচনার অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। আগের আট দল ও নতুন তিন দল মিলিয়ে মোট দাবি দাঁড়িয়েছে ৩৪৮টি আসন, যা সংসদের মোট আসন সংখ্যার চেয়েও বেশি। অথচ জামায়াতেরও নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে। এসব দাবি মূলত প্রত্যাশার জায়গা থেকে তোলা হয়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং উদার মন নিয়ে সবাই কাজ করছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আসন সমঝোতা হতে পারে। আশা করি, এর আগেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বেশি আসন দাবি করেছিল, এটা ঠিক। তবে জোটের আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। যে আসনে যে দলের প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকবে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাখিল করা আপিল ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নিষ্পত্তি করবে কমিশন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে জোটের অনেক শীর্ষ নেতার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা সবাই আবার নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। সেজন্য সমঝোতা এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে জোটের আসন সমঝোতা একটা প্রক্রিয়ায় আসবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ বলেন, আসন সমঝোতার আলোচনা অনেকখানি এগিয়েছে। আগের চেয়ে আসনসংখ্যাও বেড়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।

১১ দল,আসন বণ্টন,ঘোষণা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত