ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

প্রবাসী ভোটে অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের: সালাহউদ্দিন

প্রবাসী ভোটে অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের: সালাহউদ্দিন

পোস্টাল ব্যালটে ভোটের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যারা পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও প্রেরণের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তাদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, বৈঠকে নির্বাচনসংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দু-একটি বিষয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি অভিযোগ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট এই প্রথম ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, তবে বর্তমানে যে ভুলগুলো হচ্ছে, তাতে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তার দাবি, অনিয়মের অভিযোগগুলোতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কাজ হয়েছে বলে তাদের ধারণা ছিল, যা এখন প্রকাশিত হচ্ছে এবং সেটি আর শুধু ধারণার পর্যায়ে নেই, বরং প্রমাণিতও হচ্ছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে—এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কোন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে তারা ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যাখ্যা দেবে এবং প্রয়োজনে আজই তা দিতে পারে।

পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার করা হয়, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে আলাদা আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।

নির্বাচনি আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন। ভোটার স্লিপের মাধ্যমে ভোটের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক সহজে পাওয়া গেলে ভোটারদের জন্য সুবিধা হবে। ভোটার স্লিপে কোনো দলের নাম দেওয়া যাবে না কিংবা প্রতীক ও প্রার্থীর ছবি দেওয়া যাবে না—এ ধরনের বিধান পুনর্বিবেচনা করা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, নির্বাচন কমিশন চাইলে নিজেরাই এই বিধান পরিবর্তন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব নয়। ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে। নির্বাচনকে কঠিন না করে ভোটারদের সহযোগিতা করা উচিত।

সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল, যা রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। অথচ বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বিএনপির নজরে এসেছে।

এর আগে, সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সালাহউদ্দিন,সংশ্লিষ্ট,ভোটে অনিয়ম হলে,প্রবাসী ভোট
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত