ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাবা

পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
বাবা

নিবিড় ঘুমঘোরে স্বপ্নের মসৃণ চাতাল তৈরি হলে

মাঝে মাঝে বাবা আসেন। কখনও খোঁচা খোঁচা

দাড়ি কখনো মসৃণ কামানো মুখ, দাঁতের দীপ্তি

দেখা মৃদু হাসি অভয়ের; বুদ্ধের বরদা মুদ্রার মতো।

ভবিষ্যতের অনেক কিছু ইঙ্গিত করেন। তবু তার

সে ইশারা ভাষা পড়বার বিদ্যে আমার রপ্ত হয়নি আজও।

তার মৃদু হাসি হতে বুঝি তিনি আমাকেই দেখতে আসেন

বৃষ্টি হয়ে চৈত্রের খরদগ্ধ মাটিকে প্রশান্তি দিতে কিংবা ভোরের

অরুণ হয়ে মাঘ-প্রহৃত শীতে কাঁপা রাতকে ভরসা দিতে।

যতদিন বাবা ছিলেন মানুষের অবয়বে অবনীর পিঠে,

ততদিন ভয় আর সমীহের যুগলবন্দিতায় লুকোচুরি

খেলেছি কেবল, ঘরে ঢুকতে কিংবা ঘর হতে বাইরে

যেতে কীভাবে বাবাকে এড়ানো যায় সেই কসরত

শিখতে শিখতে বালকবেলা শেষে উপনীত হয়েছি

নিজের জীবন-সমুদ্রে। তারা হয়ে সাড়াহীন বাবা যখন

আকাশের দীপ, তখন থেকেই পার্থিব সকল বটের

পাতায় কেবল বাবার মুখ দেখি, যেন কেউ কল্পতরুর

সাজে বটের গায়ে বাবার ছবি আঁকা পাতা

সেঁটে দিয়েছে জীবনের আহ্বানে। বাসার সোফাগুলো

আজ বাবার কোল। যখন বসি বা ঝিমুই তখন অনুভব

করি কোলে নিয়ে বসে আছেন বাবা। প্রতি ভোর তাই

শুরু হয় অরুণের জাগরণে বাবার কোলে বসে।

বাবারা হারায় না, কোনো না কোনোভাবে থেকে যায়

জীবনের সাথে। বাবারা অনির্বাণ স্নিগ্ধ রোদের শরীর,

বাবারা স্মৃতির সরণি মনের ঝাঁপি খুললেই। বাবাহীন

পৃথিবী তাই নির্মমতার চূড়ান্ত সীমা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত