
বোয়ালখালী উপজেলার প্রত্যন্ত মাঠজুড়ে বাসন্তী রঙের সূর্যমুখী ফুলের নজরকাড়া হাসি। শেষ বিকালের নরমণ্ডকোমল রোদে মাঠজুড়ে সূর্যমুখী ফুলে ফুলে উজ্জ্বল হাসিতে কৃষকের মলিন মুখের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাঠের পর মাঠ সবুজের মধ্যে চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের ঝলকানি দেখে যে কারও ই মন জুড়িয়ে যায়। সূর্যমুখী যেন সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। এ যেন এক চিলতে মাঠে সূর্যমুখী ফুলের দোলাচল। জানা গেছে, সরকারি প্রণোদনায় এবং কৃষকদের আগ্রহে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় ফসলের চাষ হয়েছে। সেই চাষে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে মাঠ।
সূর্যমুখী ফুলের বাগানের ওপরে উড়ছে মোমাছি আর নানারকম পাখি। শেষ বিকালে মৌমাছিরা সূর্যমুখী ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। চোখ ও মন জুড়িয়ে যাওয়ার মতো এক অপরূপ দৃশ্য। এমন মুগ্ধ দৃশ্য দেখে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। সবুজ মাঠের মাঝখানে হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের বাগানের এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।
আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. বাবর জানান, গত দুই মাস আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সূর্যমুখী বীজ সংগ্রহ করে প্রথম বারের মতো ১ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন তিনি। এছাড়া পূর্ব আমুচিয়ার কৃষক জসিম উদ্দিন ৮ শতক ও পূর্ব ধোরলা গ্রামের কৃষক অজিত বড়ুয়া ৮ শতক জমিতে এবার করেছেন সূর্যমুখী ফুলের চাষ। বোয়ালখালীতে সূর্যমুখীর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা না থাকলে ও সরকারি সহযোগিতায় এই ফসলের আবাদে দিন দিন কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান ওই ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর ইসলাম বলেন, সূর্যমুখী একটি স্বল্পমেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল। বেশিরভাগ হ্মেত্রে সূর্যমুখী চাষ ঝুঁকিমুক্ত। তেলের জন্য এই ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। রোপণের তিন মাসে এই ফসল ঘরে তোলা যায়। কৃষকরা আগ্রহী হলে আগামী বছর আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদেশ থেকে ভাজ্য তেলের আমদানি কমাতে সরকার বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেছে কৃষকদের মধ্যে। আবাদ বাড়লে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।