ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাঙ্গুনিয়ায় ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে বদলেছে কৃষিচিত্র

রাঙ্গুনিয়ায় ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে বদলেছে কৃষিচিত্র

প্রথাগত চাষাবাদের চিরাচরিত ধারা বদলে রাঙ্গুনিয়ার কৃষি জমিতে এখন লেগেছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। কম খরচে অধিক ফলন আর রোগবালাইমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষকদের নতুন ভরসার নাম ‘মালচিং পদ্ধতি’। এই পদ্ধতিতে মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে উপজেলার অনেক কৃষকই আজ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছেন। আধুনিক এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এতে জমি পলিথিন বা মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ফলে আগাছা জন্মানোর সুযোগ থাকে না, সেচ ও সারের অপচয় কমে এবং পোকাণ্ডমাকড়ের উপদ্রব অনেকাংশে হ্রাস পায়। প্রথাগত পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় কৃষকদের মুনাফার অংক বাড়ছে কয়েকগুণ।

এই চাষাবাদ পদ্ধতির সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্য বেতাগী এলাকার কৃষক মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী। রাম গতির হাটের পূর্ব পাশে নিজের ২২ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড ‘ইন্দ্রা’ জাতের মরিচ চাষ করে তিনি পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য।

দিদারের দেওয়া তথ্যমতে, তার এই প্রকল্পে বীজ, সার ও মালচিং পেপারসহ আনুষঙ্গিক সর্বমোট খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। অথচ এরইমধ্যে তিনি ৭০ হাজার টাকার কাঁচা মরিচ এবং ৪০ হাজার টাকার শুকনা মরিচ বিক্রি করেছেন। এছাড়াও তার কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি শুকনা মরিচ মজুদ রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে এই মৌসুমে তার মোট আয় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং নিট মুনাফা ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। দিদারুল আলমের দেখাদেখি অনুপ্রাণিত হয়ে একই পথে হাঁটছেন বুড়ির দোকান তালুকদার পাড়ার কৃষক রতন চৌধুরী। চাকরির পাশাপাশি কৃষি কাজে যুক্ত রতন চৌধুরী তার ৪ শতক জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। তিনি আশা করছেন, তার ক্ষেত থেকে ৭০-৮০ কেজি শুকনা মরিচ পাবেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ এই চার শতক জমিতে তার সর্বমোট খরচ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। তার এই সাফল্য অল্প জমিতেও যে লাভজনক চাষাবাদ সম্ভব, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত