
চট্টগ্রাম নগরীর সাথে কর্ণফুলীর নাম ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বন্দর নগরীর সূচনালগ্ন থেকে আজও পর্যন্ত এ নদী বহু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। আশেপাশে গড়ে ওঠা জনপদের বেশিরভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে এ নদীর সঙ্গে বিভিন্ন দিক দিয়ে সংযুক্ত যা কর্ণফুলীর প্রয়োজনীয়তাকে সবার কাছে দৃশ্যমান করে তুলেছে। কর্ণফুলীর নির্মল হাওয়া পথিক ও পর্যটকের মন জুড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে এ নদীর অবস্থান অনেকটাই পাল্টেছে। দূষণ গ্রাস করে নিয়েছে নদীর নাব্য, জলজ উদ্ভিদের অভয়ারণ্যে এবং পানির বিশুদ্ধতা। নগরের নীরবতা গ্রাস করছে শব্দ আর সমুদ্র উপকূলে ছড়িয়ে পড়ছে জাহাজ ভাঙা শিল্পের রাসায়নিক বর্জ্য। চট্টগ্রামের পরিবেশে চলমান এই নীরব বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরিবেশগত উপাত্তে। গবেষকদের ভাষ্য, দূষণের এই বহুমাত্রিক চাপ শুধু প্রকৃতিকেই নয়, নগরবাসীর স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। গত পাঁচ বছরে দূষণের প্রায় সব সূচকেই অবনতি ঘটেছে চট্টগ্রামের। গবেষকরা বলছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চট্টগ্রাম ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। বর্তমানে ২০২৬ সালের জুন মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রামের বায়ুমান সূচক (একিউআই) ৮১ এবং পিএম-২.৫ এর ঘনত্ব ২৫.৪ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার রেকর্ড করা হলেও গত পাঁচ বছরের সামগ্রিক চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক।শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (একিউএলআই) এর দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দূষণের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রামের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ছয় বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বিভাগের ‘স্পেশাল ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস-২০২৫’ গবেষণা বলছে, শহরে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের ঘনত্ব ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আইকিউএয়ারের বিশ্ব বায়ুমান ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামের বায়ু দূষণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে শহরের বার্ষিক গড় পিএম-২.৫ ঘনত্ব ছিল ৪৫.২ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ মানদণ্ডের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ বেশি। ২০২২ সালে এ হার বেড়ে ৪৯.৮, ২০২৩ সালে ৫৫.৩, ২০২৪ সালে ৫৮.৬ এবং ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ৬১.১ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারে পৌঁছায়, যা নিরাপদ সীমার প্রায় ১২.২ গুণ বেশি। আইকিউএয়ারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের বায়ুমান সাধারণ মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের সমন্বিত তথ্যেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির শুষ্ক মৌসুমে বায়ুমান সূচক প্রায়ই ১৮০ থেকে ২৫০-এর ওপরে ওঠায় এ সময়ের গড় পিএম-২.৫ ঘনত্ব দাঁড়িয়েছে ৫৮.২ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমার প্রায় ১১.৬ গুণ বেশি। তবে জুন মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে ধূলিকণার ঘনত্ব কমে যাওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রামের দৈনিক বায়ুমান সূচক ৭৫ থেকে ৮৭-এর মধ্যে অবস্থান করছে, যা ‘সহনীয়’ বা ‘মডারেট’ শ্রেণিভুক্ত।
চিটাগং সিটি একিউআই অবজারভেশনাল স্টাডি (ডিসেম্বর ২০২৫)’ অনুযায়ী, নগরের বহদ্দারহাট, বায়েজিদ বোস্তামী, আগ্রাবাদ এবং ইপিজেড এলাকাকে সবচেয়ে দূষণপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একসময়ের নীরব, তুলনামূলক কম কোলাহলমুক্ত শহর এখন হারাতে বসেছে তার এ ঐতিহ্য ও জৌলিস। বন্দর নগরীতে শব্দ দূষণের মাত্রাও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ, ভারী যানবাহন ও নগরায়ণের চাপ এ দূষণকে আরও তীব্র করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের গবেষকদের পরিচালিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব নয়েজ পল্যুশন: আ জিওস্পেশাল স্টাডি অনচট্টগ্রাম-২০২৫’ গবেষণায় দেখা গেছে, শিল্পাঞ্চলে কর্মদিবসে শব্দের মাত্রা ৮৪.৩৫ থেকে ৯৪.০৭ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছায়। নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় সন্ধ্যার সময় সর্বোচ্চ ১০২.২০ ডেসিবেল শব্দ রেকর্ড করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, আবাসিক এলাকায় ২০২১ সালে গড় শব্দমাত্রা ছিল ৬২.৪ ডেসিবেল-এ, যা ২০২৫-২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৬ ডেসিবেল-এ।
বাণিজ্যিক এলাকা ও প্রধান ট্রাফিক মোড়ে ২০২১ সালের ৮৬.৫ ডেসিবেল-এ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৯১.৪ ডেসিবেল-এ হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, আবাসিক এলাকায় ২০২১ সালে গড় শব্দমাত্রা ছিল ৬২.৪ ডেসিবেল-এ, যা ২০২৫-২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৬ ডেসিবেল-এ। বাণিজ্যিক এলাকা ও প্রধান ট্রাফিক মোড়ে ২০২১ সালের ৮৬.৫ ডেসিবেল-এ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৯১.৪ ডেসিবেল-এ হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো নীরব জোনে বর্তমানে গড় শব্দমাত্রা ৭৫.৫ ডেসিবেল, যা আদর্শ সীমা ৫০ ডেসিবেলের চেয়ে প্রায় ২৫.৫ ডেসিবেল বেশি। সায়েন্স ডাইরেক্টে প্রকাশিত ‘রোডসাইড নয়েজ লেভেল অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েশন উইথ ট্রাফিক ভলিউম ইন চট্টগ্রাম (২০২৫)’ গবেষণায় ৪১টি প্রধান ট্রাফিক করিডোরে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ভারী লরির হাইড্রোলিক হর্ন শব্দ দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। অন্যদিকে জাইকা-এর সমীক্ষায় শহরের মিশ্র ব্যবহারের এলাকাগুলোতে রাতেও ৬৫-৭০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রাণ কর্ণফুলী এবং দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী বর্তমানে ভয়াবহ দূষণের শিকার। বাংলাদেশ জার্নাল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিজেএসআইআর) এ ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত ‘ওয়াটার কোয়ালিটি প্যারামিটারস: এ কেস স্ট্যাডি অব কর্ণফুলী রিভার’ গবেষণায় দেখা গেছে, কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলাকায় শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীর স্বাভাবিক পানির গুণগত মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পল্যুশন রিসার্চ-এ প্রকাশিত গবেষণায় কর্ণফুলীর পলিতে আন্তর্জাতিক সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, সীসা ও তামার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে জার্নাল অব ওয়াটার রিসোর্স অ্যান্ড প্রোটেকশনে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, হালদা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডি-ও) মাত্রা ২.৫ থেকে ৩.৫ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে নেমে আসে, যেখানে মাছের প্রজননের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন ৫ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার। খন্দকিয়া ও বামনশাহী খাল থেকে আসা দূষিত বর্জ্য হালদার বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ জার্নাল অফ সায়েন্টিফিক এ্যান্ড ইনড্রাস্ট্রিয়াল রির্সাচ (বিজেএসআইআর) এর আরেক প্রতিবেদনে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের পানিতে উচ্চমাত্রার টোটাল কলিফর্ম ও ফিক্যাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া অ্যাপ্লাইড ওয়াটার সায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, হালিশহর ও পতেঙ্গা এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে সল্টওয়াটার ইনট্রুশন বা লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এবং অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ভেঙে তৈরি হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন কর্ণফুলী নদী ও মোহনার জলজ পরিবেশে স্থায়ী দূষণে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব সায়েন্সে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক পল্যুশন ইন দ্য সারফেস ওয়াটার অব কর্ণফুলী এসচুয়ারি’ গবেষণায় দেখা গেছে, কর্ণফুলী মোহনার পল্যুশন লোড ইনডেক্স (পিএলআই) ১.০ অতিক্রম করেছে। সংগৃহীত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ৮৬ শতাংশই ছিল ফাইবারজাতীয় এবং পরীক্ষায় নাইলন, পলিথিন ও পলিস্টাইরিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। মেরিন পল্যুশন বুলেটিনে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত গবেষণায় কর্ণফুলী নদীকে প্লাস্টিক ও মেগা বর্জ্যরে ক্যাটাগরি-১ দূষণ অঞ্চলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নদীটিকে কার্যত একটি স্থায়ী বর্জ্য সঞ্চয়নক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্পকে পরিবেশ গবেষকরা উপকূলীয় দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এতে করে ঐ এলাকায় রাসায়নিক বিপর্যয় ঘটছে যা ঐ এলাকার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। মেরিন পল্যুশন বুলেটিন-এ ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘ইমপ্যাক্ট অব শিপব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ অন দ্য সীতাকুণ্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম’ গবেষণায় দেখা গেছে, একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ ভাঙার সময় ১০ থেকে ১০০ টন পর্যন্ত অ্যান্টি-ফাউলিং পেইন্ট সরাসরি উপকূলীয় মাটি ও পানিতে মিশে যায়। এসব রঙে উচ্চমাত্রার সীসা, পারদ, দস্তা, আর্সেনিক ও ক্রোমিয়াম থাকে।ইউরোপিয়ান জার্নাল অব কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণায় শিপইয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় ভারী ধাতুর অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) গবেষণায় অ্যাটমিক অ্যাবজর্পশন স্পেকট্রোস্কোপি (এএএস) প্রযুক্তির মাধ্যমে সীতাকুণ্ড এলাকার মাছ ও কাঁকড়ার শরীরে উচ্চমাত্রার সীসা ও ম্যাঙ্গানিজ জমার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এই বায়ো-অ্যাকুমুলেশন শেষ পর্যন্ত মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল হক জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। কর্ণফুলী ও উপকূলীয় জলজ প্রাণীর শরীরে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে, তা খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হরমোনের ভারসাম্য, কোষীয় কার্যক্রম এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল সরওয়ার জানান, বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো এখন একটি সমন্বিত পরিবেশগত সংকটে রূপ নিয়েছে। নগর পরিকল্পনার দুর্বলতা, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং পরিবেশ আইন বাস্তবায়নের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একই বিভাগের আরেক শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহিবুল্লাহ জানান, চট্টগ্রামের পরিবেশগত সূচকগুলো ধারাবাহিকভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে। কর্ণফুলী, হালদা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নগর এলাকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা, কঠোর নজরদারি এবং দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের পরিবেশগত সংকট এখন বহুমাত্রিক ও গভীর। বায়ু দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি, শব্দ দূষণে জীবনযাত্রার মানের অবনতি, কর্ণফুলী ও হালদার পানিদূষণ, মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্তার এবং জাহাজ ভাঙা শিল্পের রাসায়নিক প্রভাব মিলিয়ে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের মতে, এখনই কঠোর আইনি পদক্ষেপ, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে চট্টগ্রামের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে।