ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পাহাড় কাটার খেসারতে বাড়ছে প্রাণহানি

পাহাড় কাটার খেসারতে বাড়ছে প্রাণহানি

কক্সবাজারের উখিয়ায় প্রতি বর্ষায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা যেন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। চলতি জুলাইয়ে উখিয়ায় একাধিক পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১৫ জনের মৃত্যুর পর আবারও সামনে এসেছে অবৈধ পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও পাহাড়ঘেঁষা অপরিকল্পিত বসতির ঝুঁকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অতিবৃষ্টি নয়; পাহাড়ের প্রাকৃতিক কাঠামো ধ্বংস, দুর্বল নজরদারি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বসতিও এই প্রাণহানির বড় কারণ।

চলতি জুলাইয়ে টানা বর্ষণের মধ্যে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সমগ্র উপজেলায় একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৮ জুলাই ক্যাম্প-৫-এর একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ধসে পাঁচজন নিহত হন। এর আগে ৫ জুলাই পৃথক ঘটনায় আরও ৯ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। তাছাড়া হলদিয়া পালং ইউনিয়ন একজন মারা গেছে।

ক্যাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে পাঁচজন, ২০২৪ সালে নয়জন, ২০২৫ সালে একজন এবং চলতি বছরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বন বিভাগের তথ্য বলছে, এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় পাহাড়ধসে আরও অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ গত দেড় দশকে এই অঞ্চলে পাহাড়ধসে অন্তত ৯০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, অতিরিক্ত জনঘনত্ব এবং পাহাড়ের ঢালে অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণের ফলে প্রতিবছর ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মানবিক সংস্থা ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কুতুপালং এক্সপ্যানশন সাইটের ক্যাম্প-১ই, ১ডব্লিউ, ২ই, ২ডব্লিউ, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭; বালুখালীর ক্যাম্প-৮ই, ৮ডব্লিউ ও ৯ এবং ক্যাম্প-১৪, ১৫, ১৯, ২১ ও ২২-এর পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে, উখিয়া-টেকনাফের ১৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ বসবাস করছেন।

আরআরআরসি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত ৯টি ক্যাম্প উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৭ ও ৯ নম্বর ক্যাম্পকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বন বিভাগের হিসাবে, ৩৩টি ক্যাম্পে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত এক লাখ মানুষ সরাসরি ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন।রোহিঙ্গা সংকটের পর উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রায় ১৪ লাখ গাছের চারা রোপণ করেছে বন বিভাগ। তবে পরিবেশবিদদের মতে, শুধু বৃক্ষরোপণ নয়; পাহাড় সংরক্ষণ, বন পুনরুদ্ধার এবং পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গাছ লাগানো যথেষ্ট নয়। পাহাড়ের ঢালে স্থানীয় প্রজাতির গভীর শিকড়বিশিষ্ট গাছ লাগানো, কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, মাটির ক্ষয়রোধ এবং ঢাল স্থিতিশীল রাখার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁদের মতে, প্রকৃতিনির্ভর (নেচার-বেইজড) সমাধান দীর্ঘমেয়াদে ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর হতে পারে। সরকার, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম (আইএসসিজি) এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, পাহাড়ের ঢাল স্থিতিশীলকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও প্রতিবছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজনীয়তাই সামনে এনে দিচ্ছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানায়, বর্ষা মৌসুমে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং, স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার এবং প্রয়োজন হলে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম সতর্কতা প্রাণহানি কমাতে সহায়ক হলেও পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ না হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

রোহিঙ্গা সংগঠন আরসিপিআরের নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, প্রতি বর্ষায় পাহাড়ধসের আতঙ্কে দিন কাটান ক্যাম্পবাসী। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

কুতুপালং ক্যাম্পের মানবিক কর্মী ইউনুস আরমান বলেন, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতার চেয়ে বর্ষা শুরুর আগেই ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া বেশি জরুরি। এ জন্য বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম আরও সমন্বিত হওয়া প্রয়োজন।

পালংখালীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, আশপাশের স্থানীয় জনপদও একই ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষা এলেই পাহাড়সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতার সুযোগে পাহাড়খেকোরা সক্রিয় থাকে। বর্ষাকালে অভিযান জোরদার হলেও বছরের অন্য সময়ে পাহাড় কাটা ও দখল ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি দেখা যায় না।

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।

৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহাম্মেদ খান বলেন, পাহাড় মানুষের স্থায়ী বসবাসের জন্য উপযোগী নয়। বছরের পর বছর পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি ও সড়ক নির্মাণের ফলে এর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তাই স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, পাহাড় কাটা ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে নিম্ন আয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, পাহাড়ে বসবাস আইনগতভাবে নিষিদ্ধ এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে সেখানে বসবাসকারীদের অধিকাংশই প্রান্তিক মানুষ হওয়ায় সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি মোকাবিলা করছে। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য নিরাপদ পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বন বিভাগ ৯ হাজার ৬০ জন অবৈধ দখলকারীর তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে। গত দুই বছরে পাহাড় কাটার অভিযোগে ২৫৩টি মামলা করা হয়েছে। তবু বিকল্প আবাসনের অভাবে অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ছাড়তে চান না।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, বন বিভাগের পাঠানো তালিকায় তথ্যগত অসংগতি থাকায় হালনাগাদ তালিকা চাওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নির্ভরযোগ্য কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার এখনো নেই। পাহাড় কাটা বা পাহাড়ধসের পর অভিযান পরিচালিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। পরিবেশবিদ ও স্থপতি ড. ইকবাল হাবীব বলেন, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের গাফিলতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব প্রতিবছরের প্রাণহানির অন্যতম কারণ। প্রশাসনিক দুর্বলতা, অবৈধ দখল এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বাড়ছে।

লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, পাহাড়ধসকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং পাহাড়ের স্বাভাবিক কাঠামো ধ্বংসের ফলেই এই বিপর্যয় বারবার ঘটছে। তাঁর মতে, নিরাপদ পুনর্বাসন, বছরব্যাপী দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং পাহাড় সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় পাহাড়ের ঢাল স্থিতিশীল করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সংস্কার এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের কিছু কার্যক্রম আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সরোয়ার বলেন, কক্সবাজারের পাহাড় টারশিয়ারি যুগের পাললিক শিলা ও বেলে মাটি দিয়ে গঠিত। ভারী বৃষ্টির সময় পানি নিচের শেল স্তরে জমে সেটিকে পিচ্ছিল করে তোলে। এতে পাহাড়ের স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়ে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাঁর মতে, টানা দুই থেকে সাত দিন দৈনিক ৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

একই বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল বলেন, কক্সবাজারের অনেক পাহাড়ে পুনর্বাসনের নামে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া কিংবা পাহাড় সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। পরিকল্পিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা থাকলে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে ৪০ ডিগ্রির বেশি ঢালবিশিষ্ট পাহাড় স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় খাড়া কোণে পাহাড় কেটে বসতি ও স্থাপনা নির্মাণ করায় ঢালের স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আবাসন, সড়ক নির্মাণ ও অন্যান্য উন্নয়নকাজে নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢাল, মাটির দৃঢ়তা ও বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে পাহাড় কাটায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। গবেষকরা পাহাড় কাটা ও বন উজাড় বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি, বর্ষার আগে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার স্থানান্তর, কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, স্থানীয় প্রজাতির গাছ রোপণ এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর বর্ষা এলেই উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ ও সতর্কতা জোরদার হয়। কিন্তু অবৈধ পাহাড় কাটা, বন উজাড়, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এবং দুর্বল আইন প্রয়োগের মূল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হয় না। ফলে বছর ঘুরে আবারও একই ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

তদের মতে, কঠোর আইন প্রয়োগ, অবৈধ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা, নিরাপদ পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পাহাড় ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত