
চন্দনাইশের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা ধোপাছড়িতে ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। রয়েছে নানামুখী সমস্যা, শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না। ফলে, ফলাফল বিপর্যয় ঘটে বার্ষিক পরীক্ষায়। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দুর্গম পাহাড়ী এলাকার শিক্ষা বিস্তারের জন্য সরকার ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। কিন্তু পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিম ধোপাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদসহ ৩টি পদ খালি রয়েছে। তিনজন শিক্ষকের মধ্যে একজন ছুটিতে, অপর জন অফিসের কাজে বাইরে থাকায় সহকারী শিক্ষিকা শামীমা সুলতানা পুরো স্কুল পরিচালনা করছেন। ৬টি ক্লাসে ৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জনকে উপস্থিত পাওয়া যায়। উত্তর ধোপাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০১ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছে মাত্র দুইজন। শিক্ষক পদ খালি রয়েছে ৫টি। নৈশ প্রহরী না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে এসব স্কুল ভবন। প্রতি নিয়ত চুরির ঘটনার পাশাপাশি রাতে বহিরাগতদের উপদ্রবে অতিষ্ট শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম অতি কষ্টে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের সচেতনতার চেষ্টা করছেন বলে জানান। উত্তর ধোপাছড়ি মংলারমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষকের স্থলে প্রধান শিক্ষকসহ ৪টি পদ খালি রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক, শুরু থেকে নৈশ প্রহরী নেই। ৬টি ক্লাসে ৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ২ জন শিক্ষক। বাউন্ডারি না থাকায় একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চন্দন সুশীল। ধোপাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭১ জন শিক্ষার্থী জন্য রয়েছে ৩ জন শিক্ষক। ২০২৫ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকসহ ৪টি পদ খালি রয়েছে। নৈশ প্রহরী ও বাউন্ডারি না থাকায় চুরির ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। চিড়িংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছে ৪ জন। শিক্ষার্থী ৫২ জনের মধ্যে অধিকাংশ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেয়। প্রধান শিক্ষকসহ ৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।