
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গণভোটে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জামায়াতের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী বাজারে স্থানীয় বিএনপি নেতা আতাউর রহমান পলাশের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জামায়াত কর্মী সামিউল ইসলামকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন- স্থানীয় এলাঙ্গী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি শৈলমারী গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে আইয়ুব আলী (৫০), তছের আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৪৯), তারাকান্দি গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে জিয়াউর রহমান (৪৫), আলাউদ্দিনের ছেলে জিয়াউর রহমান ঠান্ডু (৪৩), রাঙামাটি গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে আবু বক্কার (৪৮), ছোহরাব হোসেনের ছেলে সামিউল ইসলাম (৩০) ও নলডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৩)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরদ্ধে ধুনট থানায় মামলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাঙ্গী বাজার এলাকায় হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আব্দুল করিম বাদী হয়ে ধুনট থানায় বিএনপির ১৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। জামায়াতের বগুড়া-৫ আসনের এমপি প্রার্থী দবিবর রহমান আহতদের সঙ্গে দেখা করার পর অভিযোগ করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে ব্যাহত করতেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আইয়ুব আলী বলেন, নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। হামলা বা মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।