ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচ

চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচ

নগরের হালিশহর থানাধীন এসি মসজিদের পাশে একটি আবাসিক ভবনের রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে পরিবারের শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোররাতে হালিমা মঞ্জিল নামের ভবনের ৩ তলায় এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জন হলেন- শাখাওয়াত হোসেন, মো. শিপন, মো. সুমন, মো. শাওন, মো. আনাস, উম্মে আইমন, আয়েশা আক্তার, পাখি আক্তার ও রানী আক্তার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন, পাখি আক্তার ও রানী আক্তারের শ্বাসনালীর শতভাগ পুড়ে গেছে। মো. শিপনের শ্বাসনালীর ৮০ শতাংশ পুড়েছে। মো. সুমন ও মো. শাওনের পুড়েছে ৪৫ শতাংশ। তিন শিশু মো. আনাস, উম্মে আইমন ও আয়েশা আক্তারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আগ্রাবাদ স্টেশনের অফিসার খান খলিলুর রহমান জানান, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়েছিল, রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। লাইনের গ্যাস লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেই বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের দুটি স্টেশনের ৪টি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয় মো. মকবুল। তিনি জানান, সাহরির আগে রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণ হয় বলে জেনেছি। দগ্ধ সকলে একই পরিবারের সদস্য। কুমিল্লার বুড়িচং থেকে এক ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিল অন্য ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দগ্ধ ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই মো. আশিক জানান, গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণে শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনকে ভোরে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের ৩৬ নম্বর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত গতকাল সোমবার দুপুরে জানান, দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান বলেন, মর্মান্তিক এ ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়। মেডিকেল টিমের মাধ্যমে দগ্ধদের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত