ঢাকা রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

আতঙ্কের জনপদ ময়মনসিংহ জেলায় এক বছরে ১১১ খুন

আতঙ্কের জনপদ ময়মনসিংহ জেলায় এক বছরে ১১১ খুন

ময়মনসিংহ নগরীতে বেপরোয়া ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, অটোরিকশাচালক কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে খুন ও ছিনতাইয়ের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন আনন্দ মোহন কলেজ-এর শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন। দুদিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জেলায় মোট ১১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ২০টি খুন সংঘটিত হয়েছে ছিনতাইকে কেন্দ্র করে। একই বছরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬০টি মামলা এবং ৪৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাস্তবে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। কোতোয়ালি থানায় প্রতিদিন গড়ে ৮-১০টি অভিযোগ জমা পড়ে। তবে সামাজিক হয়রানি ও পুলিশের প্রতি অনাস্থার কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন না।

নগরীর শম্ভুগঞ্জ, ব্রিজ মোড়, কেওটখালী, বাকৃবি শেষ মোড়, সানকিপাড়া, মীরবাড়ি, কলেজ রোড, গাঙ্গিনারপাড়, স্টেশন রোড, পুরোহীতপাড়া, বাঘমারা, চরপাড়া, মাসকান্দা ও জয়নুল আবেদীন পার্ক এলাকাকে ছিনতাইয়ের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন নির্জন স্থান ছাড়াও চলন্ত অটোরিকশা ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকাতেও সংঘবদ্ধ ছিনতাই হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছর আটক ৪৬৭ জনের মধ্যে ৩৬২ জনই স্টেশন রোড, পুরোহীতপাড়া, সানকিপাড়া ও মীরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। আটক হওয়া অন্তত ৩০০ জন পেশাদার ছিনতাইকারী জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৯, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৯২ ধারায় ছিনতাইয়ের মামলা হলেও সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাব ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক আসামি খালাস পেয়ে যায় বা সহজে জামিন পায়। ফলে অপরাধ দমনে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। সচেতন নাগরিকরা অপরাধপ্রবণ এলাকায় সিভিল পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সিসিটিভি স্থাপন, মোবাইল আইএমইআই ট্র্যাকিং জোরদার, বিট পুলিশিং সক্রিয়করণ এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ছিনতাই করা পণ্য কেনাবেচায় জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নগরীতে ছিনতাই বৃদ্ধি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মানুষকে সবসময় বুঝানোর চেষ্টা করছি সতর্কভাবে চালাচল করুন, এছাড়া আপনারা ছিনতাইয়ের শিকার হলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করবেন। পুলিশ সবসময় চেষ্টা করে সাধারণ মানুষের জামালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত