ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আসামির যাবজ্জীবন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আসামির যাবজ্জীবন

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল রোববার সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতনে দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মহিবুর রহমান দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের তেরাপুর গ্রামের গৌছ আলীর ছেলে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি পলাতক আছেন। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন, জরিমানার টাকা নির্যাতনের শিকার নারী পাবেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ছাতক পৌর শহরের বাসিন্দা ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয় মহিবুর রহমানের। মহিবুর রহমান জানান, তিনি ফ্রান্সে আছেন। সেখানে তার অনেক বাড়িসহ অনেক সম্পদ আছে। নিয়মিত কথাবার্তার এক পর্যায়ে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মহিবুর মেয়েটিতে জানান, বিয়ে করে ফ্রান্সে নিয়ে যেতে চান।

কিছুদিন পর তিনি জানান, দেশে চলে এসেছেন। এরপর মেয়েটির সঙ্গে দেখা করেন। এর মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। এরপর ওই বছরের ১১ নভেম্বর মহিবুর তার এক বন্ধুকে দিয়ে মেয়েটিকে ছাতক পৌর শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান। মেয়েটিকে সেখানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা রাখেন।

এ সময় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা হয়। পরে মেয়েটিকে বিদায় করে দেন মহিবুর। মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মেয়েটি জানতে পারেন, মহিবুর প্রতারক। কখনও ফ্রান্সে ছিলেন না। এক সময় ব্রুনাই ছিলেন। এরপর তাকে আবার হোটেলে যেতে বলা হলে মেয়েটি সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

মহিবুর সেই ভিডিও ও ছবি ফেসবুক, ইউটিউবে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে সেই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মেয়েটি পরবর্তীতে পর্নোগ্রাফি আইনে ছাতক থানায় মহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার রায় ও আসামির সাজার বিষয়টি জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), আইনজীবী শামসুর রহমান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত