
কুমিল্লার তিতাসের নদী, খাল-বিলের অবক্ষয় ক্রমশ বেড়ে চলেছে। যা স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। অপরিকল্পিত খাল ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখলের কারণে কালের বিবর্তনে ২৮ কিলোমিটার খাল হারিয়ে গেছে। এসব খাল পুনঃউদ্ধার ও খননে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর নড়েচড়ে বসেছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের একাধিক দপ্তরের সার্ভের মাধ্যমে ৪০টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খালের দৈর্ঘ্য ৮৪.২০ কিলোমিটার। যার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে সাড়ে ২৩ কিলোমিটার এবং মরে বা বিলীন হয়ে গেছে সাড়ে ৪ কিলোমিটার। এছাড়াও পরিসংখ্যানে ৫৬.২০ কিলোমিটার খাল সচল রয়েছে। যার মধ্যে খননের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার খাল। বাকি ৪১.৭০ কিলোমিটার খাল খননের প্রয়োজন নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যাগব্যবস্থাপনা বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে মনাইরকান্দি ব্রিজ হতে হরিপুর কদমতলী-দাসকান্দি পর্যন্ত কাইসার খাল (৫ কি.মি.) এবং দড়িগাঁও তিতাস নদী হইতে চরকাঠালিয়া ব্রিজ হয়ে গঙ্গাপ্রসাদ পর্যন্ত (৩ কিমি.) খাল পুনঃখননের তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গোমতী, তিতাস, মেঘনা ও কাঁঠালিয়া নদী বেষ্টিত তিতাস উপজেলার আনাচে-কানাছে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বহু খাল ছিল। বিশেষ করে জিয়ার খাল, মোকতারম খাল, জৈদ্দার খাল, ফেরার খাল, বৈদ্দার খাল, গজারিয়া খাল, বুড়িয়ার জলা খালসহ কাইছার খাল, কানাইনগর খাল, স্বরসতীর চর খাল, নয়াচরের খাল, শাহপুর বড় খাল, মটলী খাল, বালুয়াকান্দি খাল, নয়াকান্দি মাঝি বাড়ি খাল উল্লেখ্যযোগ্য।
স্থানীয়রা জানান, কালভার্ট বিহীন অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং প্রভাবশালীদের দখলের কারণে এসব খালের অনেক এখন হারিয়ে গেছে। ফলে খাল ও বিলের অনেক অংশ শুষ্ক বা ভগ্নদশায় পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে যেখানে নৌকা চলাচল করত, জলাধার পানি ধরে রাখত, এখন সেই খালগুলো কার্যহীন ও অগভীর হয়ে গেছে। ফলে শস্যচাস ও মৎসজীবনের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
জিনিয়াস ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, নলচরের খাল নামে গ্রামের পাশে একটি খাল ছিল, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ কিলোমিটার। ঐ এলাকার পানি উক্ত খালের মাধ্যমে তিতাস নদীতে পতিত হতো। বর্তমানে খালটির পানি প্রভাব বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এটি দ্রুত খনন করার প্রয়োজন। বাতাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহজামান শুভ বলেন, শাহাবৃদ্ধি থেকে মজিদপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার একটি সংযোগ খাল আছে। তবে এটি শুষ্ক মৌসুমের আগেই শুকিয়ে যায়। এটি জরুরিভিত্তিতে খনন করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সংবাদকর্মী তাসীন তিহামী বলেন, বিগত দুই বছর আগে সাড়ে ১১ কিলোমিটার তিতাস নদী খননের পর এখন নদীতে শুষ্ক মৌসুমেও পানি থাকে। যা কৃষিক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয়। তবে বিভিন্ন এলাকার গ্রাম সংলগ্ন অধিকাংশ খাল দখল বা বিলীন হয়ে গেছে। খালের সংকট শুধুমাত্র পরিবেশে নয়, অর্থনৈতিক প্রভাবও ফেলে। এসব খাল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও পুনঃখননের মাধ্যমে খালগুলোতে পানি প্রবাহ পুনঃস্থাপন করা জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া মমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলার ৪০টি খাল চিহ্নিত করে তার তথ্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে দুটি খালের তথ্যও প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক খালগুলো পুনঃখনন ও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হবে।