ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ হুমকিতে স্বাস্থ্য

রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ হুমকিতে স্বাস্থ্য

নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কৈমারী রোডে রাস্তার পাশ দিনদিন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। এসব ময়লার স্তূপ থেকে বের হওয়া উৎকট দুর্গন্ধতে চরম বিপাকে পড়েছেন পথচারীসহ পৌরবাসী। পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো কসাইখানা না থাকায় অনেক বছর যাবত ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন কৈমারী রোডের পাশের্^ই এ জায়গাটিতে গরু জবাই করে আসছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। জবাই হওয়া গরুর রক্ত ও গোবর দিনের পর দিন জমে থাকে এখানে। এছাড়াও সন্ধ্যা হলেই মাছ বাজার, কাঁচা বাজার, বিভিন্ন হেটেল ও ফার্মের মুরগি বিক্রেতাগণ তাদের দোকানের ময়লা আবর্জনাগুলো এই জায়গা ফেলেন। কৈমারী রোডস্থ জমে থাকা এসব ময়লা ১/২ মাস পর পর পৌর কর্তৃপক্ষ অন্যত্রে নিয়ে গিয়ে রাখেন। স্থানীয়দের অভিযোগ কৈমারী রোডের এসব ময়লা নিয়মিত অন্যত্রে নিয়ে না যাওয়ায় দুর্গন্ধের জন্য প্রায় ২০০ গজ পর্যন্ত এলাকাজুড়ে থাকা খুবই কষ্ট হয়। বাধ্য হয়ে নাকে কাপড় কিংবা নিশ্বাস বন্ধ করে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। ময়লার স্তূপের সঙ্গেই রয়েছে জলঢাকা দাখিল মাদ্রাসা। এমপিওভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৪৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। দূর্গন্ধের কারণে অনেক কষ্ট করে ক্লাশ করেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। অনেকে এই গন্ধের জন্যই মাদ্রাসায় কম আসেন। মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা মারিয়াসহ অনেকে জানান,অতিরিক্ত দূর্গন্ধের কারনে আমরা মাঝে মধ্যে মাদ্রাসায় আসি না, আর আসলেও ক্লাস করতে খুবই কষ্ট হয়। মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখানে ময়লা ফেলায় পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। কারও পক্ষে স্বাভাবিক নিঃশ্বাস নিয়ে এ রাস্তা পার হওয়া সম্ভব নয়। আমরা নাক বন্ধ করেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করি। আমাদের সন্তানেরা খুব কষ্ট করে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে।

কৈমারী রোডের অটোপার্টস ব্যবসায়ী মাসুদ রানা নুরবক্ত বলেন, দুর্গন্ধের জন্য ঠিকমতো দোকান করতে পারিনা, অতিদ্রুত পৌরসভার একটি কসাইখানা ও সুনির্দিষ্ট ময়লা ফেলার জায়গা নির্ধারণ করতে পৌর প্রশাসকের নিকট জোর দাবী জানান তিনি।

জলঢাকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মহেসিন আলী বলেন, ময়লার স্তূপের সঙ্গে আমাদের মাদ্রাসা। অতিরিক্ত গন্ধের জন্য শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে শিক্ষকদের অনেক কষ্ট হয়, অনেক শিক্ষার্থী এই দূর্গন্ধের জন্য মাদ্রাসায় কম আসেন। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে অনেক বার বলেও কোন প্রতিকার পাইনি।

পৌর সচিব আশরাফুজ্জামান জানান, ময়লার স্তূপের ফাঁকা জায়গাটি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা রয়েছে, অতিদ্রুত এ নিয়ে আলোচনা করা হবে। নিয়মিত পরিষ্কার করতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের তাগিদ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাাহী অফিসার জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, ময়লার স্তূপের জায়গাটি মাঝেমধ্যে পরিষ্কার করা হয়, আর জায়গাটি ফাঁকা থাকায় ময়লার স্তূপ হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকে। জায়গাটি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা রয়েছে, আগামীতে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত