
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শতাধিক একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
গত শুক্রবার রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি হালুয়াঘাট উপজেলার বোরারঘাট নদীর বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবেশ করে গাজীরভিটা ইউনিয়নের গাজীরভিটা, বোয়ালমারা, মহাজনীকান্দা, পাগলাবাজার, পূর্ব কালিনিকান্দা ও আনচেংগ্রী গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান, ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন রবিশস্য পানির নিচে তলিয়ে যায়। অন্যদিকে ধোবাউড়া উপজেলার নেতাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গামারীতলা ইউনিয়নের কলসিন্দুর গ্রামের রনশিংহপুড় এলাকায় রাবার ডেম সড়ক ভেঙে যায়। এতে রনশিংহপুড় ও বাঘবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঘবেড় গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় নিচু এলাকার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। গবাদিপশু নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। হালুয়াঘাটের আনচেংগ্রী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বোরো ধানে শীষ আসার কথা ছিল, কিন্তু সবই এখন পানির নিচে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
বোয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর আগে নদীর বাঁধ ভেঙে গেলেও তা মেরামত না করায় প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢলে এলাকার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধোবাউড়ার রনশিংহপুড় এলাকার বাসিন্দা আজিজ মিয়া জানান, রাবার ডেম সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর দ্রুত পানি নিচু জমিতে ঢুকে পড়ে, এতে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক জানান, হালুয়াঘাটে প্রায় ২০০ একর এবং ধোবাউড়ায় আরও অন্তত ১০০ একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত বলেন, বোরারঘাট বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, ভেঙে যাওয়া রাবার ডেম সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।