
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে শিবিরের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি জুলাই বিপ্লবের শহিদ ওসমান হাদিকে নিয়ে আঁকা গ্রাফিতি মুছে দিয়ে সেখানে আপত্তিকর শব্দ লেখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এসময় বাধা দিতে গেলে শিক্ষকরাও আহত হন। এছাড়া বিকালে প্রতিবাদ মিছিলে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে পুনরায় হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গতকাল শুক্রবার যশোর শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে (বিডি হল) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘বাছাইকৃত কর্মী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যশোর জেলা (পূর্ব) শাখা ছাত্রশিবির সমাবেশের আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন জেলা পূর্ব শাখা সভাপতি এম মিনারুল ইসলাম।
শিবির সভাপতি ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল ও বিএনপিকে অভিযুক্ত করেন।
বক্তৃতায় নূরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দায় এড়াতে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতা দখলের মানসিকতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, নূরুল ইসলাম সাদ্দাম উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সমাজের বিশৃঙ্খলা ও অন্যায় দূর করার একমাত্র পথ হলো ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করা। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার লিপ্সা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে ছাত্রশিবির ও ইসলামী আন্দোলন কাজ করে যাচ্ছে।’ এসময় তিনি সাধারণ মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মাদরাসা সম্পাদক হাফেজ ইসমাইল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম, শিবিরের সাবেক শহর সভাপতি এইচ এম শামীম, শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গাজী মুকিতুল ইসলাম প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা পূর্ব সেক্রেটারি আবু জাফর।