ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জামায়াত নেতাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

জামায়াত নেতাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

রাঙামাটির বরকল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করা হয়। রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভুষণছড়া ইউনিয়নের হরিণা বাজারের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক এই মামলাটি করেন। এতে জামায়াতের সেক্রেটারিসহ দুইজনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন- বরকল উপজেলার দক্ষিণ এরাবুনিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে রবিউল ইসলাম এবং অপর আসামি একই উপজেলার কলাবুনিয়া গ্রামের মো. আজিমুদ্দিনের ছেলে নূর হোসেন। অভিযুক্ত মোঃ রবিউল ইসলাম বরকল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে। রবিউল ইসলাম হরিণার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করার পর থেকে ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হককে জীবন নাশের হুমকি দেওয়ায় বরকল থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় (সাইবার পিটিশন নং-১৩৯/২০২৬) জানা যায়, ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক ও জামায়াতের সেক্রেটারি রবিউল ইসলামের বাড়ি একই এলাকায়। অপরদিকে নূর হোসেনের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায় হলেও দীর্ঘদিন একই এলাকায় বসবাস করেন। ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক হরিনা বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডিলারশীপ ব্যবসা করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। তারই সূত্র ধরে রবিউল ইসলাম ও নূর হোসেনের সাথে বেশ সখ্যতা তৈরি হয়।

কিন্তু মোজাম্মেল হকের ব্যবসা দিন দিন উন্নতি দেখতে পেলে এতে বিভিন্ন ধরনের প্রপাগান্ড করে তার কাছে থেকে অন্যায় ও অনৈতিক দাবি করছিল রবিউল ইসলাম ও মোঃ নূর হোসেন। কিন্ত ব্যবসায়ী মোজাম্মেল তাদের দাবি মেটাতে না পারলে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে রবিউল ইসলাম ও নুর হোসেন তাদের নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে মানহানিকর পোস্ট দিতে থাকে। যেখানে ব্যবসায়ী মোজাম্মেলকে কখনও চোরাকারবারী, কখনও অবৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে মন্তব্য করে। একইসঙ্গে সীমান্তে প্লাস্টিক পণ্য, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন পণ্য পাচার এবং অবৈধভাবে সেগুন কাঠ পাচারের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। এতে ব্যবসায়িক সুনাম ও পারিবারিক মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ করার নিমিত্তে ব্যবসায়ীর ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ব্লাকমেইল করছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক রবিউল ইসলাম ও নূর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করে বলে জানায় মোজাম্মেল হক। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও নামে-বেনামে ফেসবুক আইডি খুলে একই রকম পোস্ট করে তার ব্যবসায়িক ও সামজিক এবং পারিবারিক সুনাম, মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ করবে বলে হুমকি দেয়।

ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বরকল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত চাঁদাবাজীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন বরকল উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে যে সকল চোরাচালান হয় এর মূল হোতা হলো মোজাম্মেল হক। মূলত এসব চোরাচালানের জন্য বরকল উপজেলার দুর্নাম গোছাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে ফেইসবুকে স্টাটাস দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাবুনালে মামলা হওয়ার খবর শুনেছেন জানিয়ে তিনি পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী আরও বাহিনী দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে করা মামলা দায়েরের বিষয়টি জানার পর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক।

নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বরকল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বরকল থানার অফিসার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, মোজাম্মেল হক নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্তের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত