
পটুয়াখালীর দশমিনায় বর্ষা মৌসুম শুরু থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারে দেশি প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং এক সময়ে সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা সদর, রনগোপালদী আলীপুরা, বেতাগী সানকিপুর, বহরমপুর ও চরবোরহান ইউনিযনের খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয় প্রতিদিন এই নিষিদ্ধ ঘোষিত চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে ছোট বড় নব ধরনের মাছ নিধন করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও মাছের পোনা নিধনের কারনে দেশী প্রজাতির মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
মৎস্যসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা সদর, রনগোপালদী আলীপুরা, বেতাগী সানকিপুর, বহরমপুর ও চরবোরহান ইউনিয়নের খাল বিলও জলাশয়ে এখন আগের মত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল-টাকি, পুটি, গজার, চাপিলা, খলিশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, বাইন সহ প্রায় অর্ধশতাধিক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহারে কৃষিজমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও মাছের পোনা নিধন এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক প্রবীণ জানান, প্রায় তিনযুগের আগেও উপজেলার বিভিন্ন ভাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। হাট বাজারে দেশীয় প্রজাতির মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এবিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জেলেদের সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহামুদ হাসান মৃধা জানান, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষাতের কথা চিন্তা করে জেলে সহ সকলকে সচেতন হবে।