ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইরাকে ওভেন বিস্ফোরণে চুয়াডাঙ্গার যুবক নিহত

ইরাকে ওভেন বিস্ফোরণে চুয়াডাঙ্গার যুবক নিহত

জীবিকার তাগিদে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের রেজাউল ইসলাম। প্রায় এক দশক প্রবাসজীবন কাটিয়ে এবার দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। পরিবারেও চলছিল নতুন স্বপ্নের আয়োজন-ছেলের জন্য পাত্রী দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ইরাকের একটি রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে ওভেন বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ২৯ বছর বয়সী রেজাউল।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মৃগমারী গ্রামের সরকারপাড়ায় এখন আর নেই অপেক্ষার সেই আনন্দ। যে ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল পরিবার, সেই রেজাউল ফিরবেন নিথর দেহ হয়ে। বাংলাদেশ সময় রোববার বিকালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আল-মুনসুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে কাজ করছিলেন রেজাউল। হঠাৎ ওভেন বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। রেজাউল মৃগমারী গ্রামের রহিম হুজুরের ছেলে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। এরপর কেটে যায় প্রায় ১০ বছর। বাগদাদের আল-মুনসুর এলাকার ওই রেস্টুরেন্টে কাজ করে উপার্জনের অর্থ দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করছিলেন তিনি। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর এবার দেশে ফেরার পালা ছিল। স্বজনদের ভাষ্য, আর মাসখানেক পরই দেশে ফেরার কথা ছিল রেজাউলের। এরই মধ্যে পরিবার থেকে তাঁর বিয়ের জন্য পাত্রীও দেখা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন পর ছেলেকে কাছে পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর নতুন সংসার শুরুর স্বপ্নও দেখছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু একটি বিস্ফোরণ মুহূর্তেই বদলে দিল সবকিছু। বাংলাদেশ সময় রোববার বিকালে দুর্ঘটনার পর রেজাউলের সহকর্মীরা তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও পাঠান। সেখান থেকেই স্বজনেরা জানতে পারেন তাঁর মৃত্যুর খবর। খবর পাওয়ার পর থেকেই মৃগমারীর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের যে ছেলেটি একদিন স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, প্রায় এক দশক পর তার ফেরার কথা ছিল হাসিমুখে। অথচ ফিরতে হবে কফিনবন্দি হয়ে। ছেলের মৃত্যুর সংবাদে ভেঙে পড়েছেন বাবা রহিম হুজুর। শেষবারের মতো সন্তানকে দেখতে চান তিনি। ছেলের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রহিম হুজুর বলেন, আমি আর সইতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে আবেদন করছি, আমার ছেলেটার লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে দেওয়ার জন্য। একটি পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় ১৯ বছর বয়সে বিদেশে যাওয়া রেজাউলের জীবনে ফিরতি যাত্রা ছিল খুব কাছেই। সামনে ছিল দেশে ফেরার আনন্দ, বিয়ের আয়োজন আর নতুন জীবনের পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত