
রংপুর মহানগরীর মডার্ন, লালবাগ, শাপলা, জাহাজ কোম্পানী, পায়রা চত্বর, কাচারী বাজার, ব্যাংক মোড়, পুরো ধাপ এলাকা মেডিকেল মোড়সহ, অপরদিকে টার্মিনাল, দর্শনা, সাতমাথা, মাহিগঞ্জ রুডসহ সকল বাজারে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটো-চার্জারের দৌরাত্ম। আবার রংপুরের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া হাইওয়ে বাইপাসসহ ঢাকা-রংপুর মহাসড়কেও দিন দিন বেড়েই চলেছে এসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটো ও সিএনজিচালিত যানবাহনের দৌরাত্ম। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে ওঠা অবৈধ অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ডের কারণে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। পাশাপাশি উল্টো পথে বেপরোয়া গতিতে চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এতে আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর দেশের অন্যতম শিক্ষানগরী ও বাণিজ্যিক অঞ্চল। এখানে বাহিরের জেলা থেকে কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ম্যাচণ্ডবাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। আবার অন্য জেলা থেকে বাণিজ্যিক ও চাকুরির সুবাদেও প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ রংপুরে বসবাস করছে। এদিকে রংপুরের মডার্ন মোড় উত্তর বঙ্গের চলাচলের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই এলাকার সড়ক ব্যবহার করেন। হাইওয়ে বাইপাসসহ ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হওয়ায় এসব সড়কে সারাক্ষণই যানবাহনের চাপ থাকে। কিন্তু মহাসড়কের সিয়োবাজার, চেকপোষ্ট, টার্মিনাল, দর্শনা, মডার্ন, ডমডমা, পার্কের মোড়, তাজহাট মোড়, সাতমাথা, মাহিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড অন্যান্য যান চলাচলের বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব যানবাহন কোনো ধরনের নিয়মণ্ডনীতি তোয়াক্কা না করেই মূল শহরের পাশাপাশি মহাসড়কে চলাচল করছে। অনেক চালকের নেই বৈধ লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তবুও তারা নির্বিঘ্নে মহাসড়কে চলাচল করছে এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়, সেই সঙ্গে সন্ধ্যার পর মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট চরম আকার ধারণ করে। অনেক পণ্যবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহনকে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত একই স্থানে আটকে থাকতে হয়। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয় এবং সময়ের অপচয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত যাত্রী পরিবহনের আশায় অনেক অটো ও সিএনজি চালক উল্টো পথে গাড়ি চালান। ট্রাফিক সিগন্যাল ও সড়ক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য দ্রুতগতির যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা জানান, অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজির কারণে মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে। যে পথ পাড়ি দিতে ১০ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
ট্রাকচালক রায়হান মিয়া বলেন, অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন নয়। অনেক সময় ট্রাফিক বা হাইওয়ে পুলিশকে জানালেও তেমন কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না।
প্রাইভেটকার চালক রঞ্জু মিয়া বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজির অধিকাংশেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। তারা কোনো নিয়ম মানে না, নিজেদের ইচ্ছামতো গাড়ি চালায়। এতে আমাদের নিরাপদে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঢাকাগামী বাসচালক আব্দুল মান্নান বলেন, ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ অটোরিকশা এবং সিএনজির বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।