ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নজরুল বর্ষের জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

নজরুল বর্ষের জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের আলোকে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ২০২৬-২০২৭ নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব জনাব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের তাঁর অসামান্য প্রতিভার জোরে বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। নজরুল ছিলেন একজন বিদ্রোহী কবি। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও কবিতা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং এসব কবিতা লেখার কারণে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছিল। তাঁর রচিত বিদ্রোহী কবিতাগুলো আজও নতুন প্রজন্মকে সাহস ও প্রেরণা জোগায়। "পূর্ববর্তী সরকারগুলো শুধু কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করলেও, বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের নজরুলকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দিতে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে 'নজরুল বর্ষ' উদযাপনের এই চমৎকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।"

সংসদ সদস্য তরুণ প্রজন্মের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত নয়, বরং স্বশিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান এবং নজরুল, রবীন্দ্রনাথ ও মাইকেল মধুসূদনের মতো কবিদের সাহিত্যকর্ম বেশি বেশি পড়ার পরামর্শ দেন। সভাপতির বক্তব্যে চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য থেকে সামাজিক শিক্ষা, মানুষ্যত্ববোধ, সাম্য, ন্যায়বোধ ও সুশিক্ষার অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানী, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নজরুল ইসলাম শুধু কবিতা ও গানের কবি নন; তিনি মানবিকতা, সাম্য, সাহস ও ন্যায়বোধের প্রতীক। তাঁর সাহিত্য শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় নজরুলকে আরও গভীরভাবে স্মরণ ও অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করা নয়; শিক্ষা মানুষকে আলোকিত, বিবেকবান ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলবে। একজন শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচলতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অর্জন করলেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে। কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য আমাদের সেই মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। স্কুলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে ভবিষ্যতেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সভাপতি ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন সিঁথি, প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব আবদুল মান্নান রানা, থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক অভীক ওসমান এবং জাসাস চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ শিপন।

বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা, সাম্য, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতা বিকশিত করা সম্ভব। জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন নতুন প্রজন্মকে জাতীয় কবির জীবন, কর্ম ও আদর্শের সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা আয়োজনে জমকালো সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা ডিসি সাহিত্য মঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। পরে প্রতিযোগিতা উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার। সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, কবিতা, কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাসসহ তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সাইফুল ইসলাম মিলন।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বলেন, 'কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা।'

জেলা প্রশাসক বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানবিক সমাজ গড়তে অনুপ্রেরণা দেয়। তাঁর গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নজরুলের আদর্শ ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে পরিচিত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

'আজকের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শুধু পুরস্কার অর্জনের জন্য নয়, নজরুলের সৃষ্টিকে হৃদয়ে ধারণ করার চেষ্টা করবে। তাদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সংস্কৃতিমনা, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে উঠবে।' কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে-এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম তারেক-উজ জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিভিন্ন গান নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়াডাঙ্গার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে

আদমদীঘি (বগুড়া) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্য দর্শন ও প্রদীপ্ত চেতনাকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে প্রস্ফুটিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিক্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় আদমদীঘি আইপিজে পাইলট উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করেন ও বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার। মূখ্য আলোচক ছিলেন সান্তাহার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড, মো. আব্দুল ওহাব।

আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহি অফিসার মাসুমা বেগমের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল মুক্তাকিন তালুকদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থিরা অংশ গ্রহন করে।

রংপুর ব্যুরো : নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের জন্য 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরু লবিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা' শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার (৩১শে আগস্ট) সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রংপুর জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম।

সোমবার (৩১শে আগস্ট) সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুলবিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা' উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, 'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বল্প সময়ে যে সৃষ্টি রেখে গেছেন, তা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, জাতীয় জীবন, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বিকাশে আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেলে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হতো।'

তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ২২ বছরের সৃজনশীল জীবনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য সাহিত্য ও সংগীতে অবদান রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও তাঁর সৃষ্টিশীলতা অব্যাহত ছিল। তাঁর জীবন ও সাহিত্য প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিভা বিকাশের দৃষ্টান্ত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হামিদুল হক বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ পৌঁছে দিতেই 'নজরুল বর্ষ' পালন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নজরুলচর্চায় সম্পৃক্ত করতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, গজল, হামদ-নাত, অভিনয় ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাত্র ২২ বছরের সৃজনশীল জীবনে নজরুল কবিতা, গান, গজল, ইসলামি সংগীত ও শ্যামাসংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি রেখে গেছেন। তাঁর সাহিত্য বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। নতুন প্রজন্ম তাঁর সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যের চেতনা সম্পর্কে জানতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী, রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী মো. জুননুন, রংপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন এবং জেলা কালচারাল অফিসার কে. এম. আরিফউজ্জামান। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবতাবাদী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কুড়িগ্রামের উলিপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে, উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম আরিফ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরে -ই- আলম সিদ্দিকী 'র সঞ্চালনায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)এস এম মেহেদী হাসান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান বুলবুল, উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস ফাতেমা তোকদার, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোত?লেবুর রহমান, এন সি পি নেতা সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার ?মো. ম?নিরুল ইসলাম, তথ্য অফিসার ভাগ্যবন্দু রায়, উলিপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরাসহ উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন ।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম আরিফ বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। নতুন প্রজন্মকে নজরুলের জীবন ও কর্মের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি তাঁর মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার সুযোগ করে দিতেই এ ধরনের আয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। নজরুল বিষয়ক এ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচিত তিনটি নজরুল সংগীত পরিচালনা করেন শিক্ষার্থীরা।

দেবহাটা (সাতক্ষীরা) : জাতীয় কবি ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেবহাটায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় দেবহাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মহিতোষ কর্মকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মাহমুদ, দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কাজী সিদরাতুল মুনতাহা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শাহিনা খাতুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খাইরুল আলম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, জুলাই যোদ্ধা মুজাহিদ বিন ফিরোজ, দেবহাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুপ কুমার দাস ও আব্দুল আজিজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।

এসময় বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা রয়েছে। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ ও চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও কর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী (পিরোজপুর) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীল কর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচিতি বাড়ানো এবং তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পিরোজপুরের কাউখালীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করা হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ উপলক্ষে উদ্বোধনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাইসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবাদ আলী, প্রধান শিক্ষক কিরণ চন্দ্র হালদার, শামসুর রহমান মিজান, সুব্রত রায়, সাংবাদিক এনামুল হক ও রিয়াদ মাহমুদ।

বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা : কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা বিকাশের লক্ষ্যে পাবনার বেড়ায় 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ আয়োজনের অংশ হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় বেড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। পাবনার বেড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরেন মায়িশা খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী শিক্ষকরা ও বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগী শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা পর্বে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বৈচিত্র্যময় জীবন, সাহিত্য ও সাম্যবাদী আদর্শ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁরা বলেন, "সংস্কৃতির সুস্থ্য' চর্চাই পারে তরুণ প্রজন্মকে আদর্শবান ও সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে।"

উদ্বোধনী আলোচনা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মূল প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে মূল প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করা, প্রতিভা অন্বেষণ এবং জাতীয় পর্যায়ে একতা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণীভেদে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে প্রতিযোগিতা হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন: গ্রুপ-ক (১ম ও ২য় শ্রেণি): নজরুল সংগীত (যেকোনো), কবিতা আবৃত্তি ('ভোর হলো দোর খোলো'), চিত্রাঙ্কন ('বিভিন্ন বয়সে ও রূপে নজরুল'), ৫ মিনিটের একক অভিনয় (নজরুলের গল্প/নাটকভিত্তিক) এবং নজরুল সংগীতভিত্তিক একক নৃত্য।

গ্রুপ-খ (৩য়-৫ম শ্রেণি): নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ('খুকী ও কাঠবিড়ালী', 'মোরা সেব', 'লিচু চোর'), চিত্রাঙ্কন, ৫ মিনিটের একক অভিনয় ও একক নৃত্য।

জুনিয়র ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়: গ্রুপ-ক (৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি): নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ('কাণ্ডারী হুঁশিয়ার'), চিত্রাঙ্কন, ৫ মিনিটের একক অভিনয় ও একক নৃত্য।

গ্রুপ-খ (৯ম-১০ম শ্রেণি): নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ('বিদ্রোহী', 'মানুষ', 'ওমর ফারুক'), চিত্রাঙ্কন, ৫ মিনিটের একক অভিনয় ও একক নৃত্য। জাতীয় কবির সৃষ্টিশীল কর্মের সাথে নতুন প্রজন্মকে নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে দেশব্যাপী এই উদ্যোগ অত্যন্ত যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সুধীজন ও আয়োজকরা।

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সৃষ্টিকর্ম ও জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে ময়মনসিংহের নান্দাইলে সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্'িত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ্‌ উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল, সিনিয়র সাংবাদিক রবিউল আলম ফরাজী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং নান্দাইলের কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। আয়োজকরা জানান, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম, মানবতা ও সাম্যের বার্তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়ে অংশগ্রহণ করছে। এ সময় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি জানার এবং তাঁর সৃষ্টিশীল চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানান।

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্'িত ছিলেন ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান মানিক এবং যুগ্ম আহ্‌বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন েেশ্রণী -পেশার মানুষ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সাম্য, মানবতা সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও ন্যায়বোধে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্ব্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুলের গান, কবিতা ও বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) : নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপি সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠাম ভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন করা হয়েছে।

বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ৩১ আগস্ট সকালে এ প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক।

উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এ অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন। কধুরখীল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ বড়ুয়ার সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুমন তালুকদার, উপজেলা ফ্যামেলী প্লানিং অফিসার তৌফিকুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সালমা ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারুনুর রশীদ, পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, কানুনগোপাড়া ড.বি বি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুননবী চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি অধীর বড়ুয়া, সাংবাদিক এসএম মোদাচ্ছের,সাংবাদিক রাজু দে, সাংবাদিক সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম,কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক তৌহিদা আক্তার,

সারোয়াতলী পিসিসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান, জ্যৈষ্টপুরা রমনী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস ঘোষ, শাকপুরা প্রবর্ত্তক কন্যা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক রাজু চৌধুরী, গোমদন্ডী আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজির আহমদ, এ অনুষ্ঠান জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষার্থী মনিষক্ষেত্র চৌধুরীসহ কৃতি শিক্ষার্থীরা নজরুল আঙ্গিকে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ গ্রহণ করেন।

চান্দিনা (কুমিল্লা) : কুমিল্লার চান্দিনায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে উপজেলার সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি আতিকুল আলম শাওন এমপি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক এর সভাপতিত্বে কাজী নজরুল ইসলাম এর স্মৃতিচারণ করে বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম ইণ্‌জারুল হক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুজ্জামান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রৌশন আরা প্রমুখ।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ এনামুল হক তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান আসিফ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়ের এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল হাশেম।

এ সময় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য, মানবতা ও দেশপ্রেমের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের পরিচিত করে তুলতে এ প্রতিযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তারা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন বিভাগীয় দপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে কলমাকান্দা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা নজরুলগীতি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম ও সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত